কুরবানী ও গরিবের হক

শুক্রবার,৩১ জুলাই,২০২০

কুরবানী একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সামর্থ্যবান নর-নারীর উপর কুরবানী ওয়াজিব। এটি মৌলিক ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
ইসলামে, হিজরী ক্যালেন্ডারের ১২ তম চন্দ্র মাসের জিলহজ্জ মাসের ১০ তারিখ সকাল থেকে ১৩ তারিখ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কুরবানী করার সময় হিসেবে নির্ধারিত। । এ দিনে বিশ্ব জুড়ে মুসলমানরা কুরবানী দেয় যার অর্থ আল্লাহ তায়ালার খুুুশির জন্য নির্দিষ্ট দিনে একটি পশুকে জবেহ করা।

কোরবানীতে গরিবের যথাযথ হক রয়েছে গোশত বন্টন ও কোরবানীর পশুর চামড়ার ক্ষেত্রে।
কুরবানীর গোশতের এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনকে এবং এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীকে দেওয়া উত্তম। (বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৪, আলমগীরী ৫/৩০০)

কুরবানীর গোশত, চর্বি ইত্যাদি বিক্রি করা জায়েয নয়। বিক্রি করলে প্রাপ্ত মূল্য সদকা করে দিতে হবে। এটা গরিবের হক।(ইলাউস সুনান ১৭/২৫৯, বাদায়েউস সানায়ে ৪/২২৫, কাযীখান ৩/৩৫৪, আলমগীরী ৫/৩০১)

কুরবানীর চামড়া কুরবানীদাতা নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে কেউ যদি নিজে ব্যবহার না করে বিক্রি করে তবে বিক্রিলব্ধ মূল্য পুরোটা সদকা করা জরুরি।
(আদ্দুররুল মুখতার, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১)

কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করতে চাইলে মূল্য সদকা করে দেওয়ার নিয়তে বিক্রি করবে। সদকার নিয়ত না করে নিজের খরচের নিয়ত করা নাজায়েয ও গুনাহ। নিয়ত যা-ই হোক বিক্রিলব্ধ অর্থ পুরোটাই সদকা করে দেওয়া জরুরি। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩০১, কাযীখান ৩/৩৫৪)

কেউ যদি কুরবানীর দিনগুলোতে ওয়াজিব কুরবানী দিতে না পারে তাহলে কুরবানীর পশু ক্রয় না করে থাকলে তার উপর কুরবানীর উপযুক্ত একটি ছাগলের মূল্য সদকা করা ওয়াজিব। আর যদি পশু ক্রয় করে ছিল, কিন্তু কোনো কারণে কুরবানী দেওয়া হয়নি তাহলে ঐ পশু জীবিত সদকা করে দিবে।

গরিবদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। তারপরও তারা কুরবানীর নিয়তে পশু জবেহ করলে তা কবুল হবে। কিন্তু যেসব দরিদ্র মানুষ কুরবানী দিতে পারেন না তাদের প্রতি যথাযথ হক আদায় করা, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তাদের অবশ্য করণীয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাদেকা সুলতানা সেতু

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles

Close