সীসা বিষক্রিয়ার ভয়াবহ ছোবলে দেশের সাড়ে তিন কোটি শিশু!

শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০
দুপুর ১.০০

বৃহস্পতিবার ইউনিসেফের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে সীসার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা সাড়ে তিন কোটিরও বেশি। ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের ইন্সটিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স এন্ড ইভ্যালুয়েশন গবেষণা করে এই ফল প্রকাশ করে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেছেন, ” সীসার বিষক্রিয়া শিশুদের জীবনভর শিক্ষাগ্রহণে অসমর্থ করে তোলাসহ তাদের স্বাস্থ্য ও বিকাশের উপর মারাত্মক ও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। বিপজ্জনক ধাতব বর্জ্য ও সীসার দূষণ এবং এর কারণে শিশুদের ক্ষতিজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করবে ইউনিসেফ।”

“দ্য টক্সিক ট্রুথঃ চিল্ড্রেনস এক্সপোজার টু লেড পলিউশান আন্ডারমিনস আ জেনারেশান অব পটেনশিয়াল” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, সীসা একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন যা শিশুদের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিকশিত হওয়ার সুযোগ না দিয়েই অপূরণীয় ক্ষতিসাধন করে এবং আজন্ম শিশুদেরকে স্নায়ুবিক, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখে ঠেলে দেয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতি তিনজন শিশুর মধ্যে একজনের দেহে সীসার মাত্রা ৫ মাইক্রোগ্রাম/ ডেসিলিটার বা তারও বেশি৷ এবং এই শিশুদের অধিকাংশের বাসই দক্ষিণ এশিয়ায়। এবং বাংলাদেশে আনুমানিক ৩ কোটি ৫৫ লাখ শিশু এই মারাত্মক বিষক্রিয়ার শিকার।

এ প্রসঙ্গে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটো ফোর বলেন, “সীসার দূষণ কতোটা বিস্তৃত তা জানা এবং ব্যক্তিবিশেষ ও কমিউনিটি এটি যে ক্ষতি করে তা বুঝতে পারা, শিশুদের সুরক্ষা প্রদানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণকে অবশ্যই অনুপ্রাণিত করবে।”

ইন্সটিটিউট অব হেলথ ম্যাট্রিক্স ইভ্যালুয়েশন এর তথ্য অনুযায়ী, সীসা বিষক্রিয়ায় মৃত্যুহারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং দেশে জনপ্রতির রক্তে গড় সীসার উপস্থিতি ৬.৮৩ মাইক্রোগ্রাম/ ডেসিলিটার, যা সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বিশ্বে ১১ তম।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোশিন অয়ন

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles

Close