দীর্ঘ একযুগ পর হারানো রাজত্বে ফিরলেন জয়নাল হাজারী

এক এগারোর পর থেকে দীর্ঘ ১০ বছর পর ফেনীতে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন হাজারী। এসময় নেতাকর্মীসহ ভক্তদের পদচারণায় মুখরিত ছিল তার নিজ বাড়ির মুজিব উদ্যান। তাকে নিরাপত্তা দিতে আইনশৃংখলা বাহিনীর নিশ্চিদ্র বেষ্টনীতে ঢাকা ছিল পুরো ফেনী শহর। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বসানো হয়েছিল চেকপোস্ট।

গতকাল শনিবার বিকেল ৪টায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফেনী শহরের মাষ্টারপাড়াস্থ মা-বাবার কবর জেয়ারত করেন জয়নাল হাজারী। জেয়ারত শেষে বাড়ি প্রাঙ্গণ মুজিব উদ্যানে দলীয় নেতাকর্মী ও ভক্তদের সাথে ঈদ শুভেচ্ছা শেষে কুশল বিনিময় করেন তিনি।

জয়নাল হাজারী তার নিজ বাসভবনের মুজিব উদ্যানে যান এবং তার ভক্তদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রেখে বলেন, ইতিপূর্বে যারা আমার জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল, তারা কে কোথায় আছেন, দেখে যান। সাংগঠনিক কোন কর্মসুচী নেই, খাবার আয়োজন নেই, সভা সমাবেশ নেই, কোন জাতীয় নেতার আগমন নেই। কাউকে আসতে বলিনি বা বাধ্য করিনি আবার টাকা দিয়ে কোন প্রলোভন দেখাইনি।

‘শুধু মাত্র মা- বাবাসহ পরিবারের লোকদের কবর জিয়ারত করতে এসেছি। আমার আসার খবর পেয়ে ফেনীর সর্বস্তরের মানুষ বাধা ও রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমার বাড়ীতে অর্থাৎ মুজিব উদ্যানে জড়ো হয়েছে।’ বিকেলে নিজ বাড়ীতে এসে গনমাধ্যমকে এসব কথা বলেন জয়নাল হাজারী।

জানা যায়, দীর্ঘ একযুগ পর নিজ বাড়ী ফেনীর মুজিব উদ্যানে ফিরলেন জয়নাল হাজারী। ঈদের দিন বিকাল সাড়ে ৪টায় তিনি এম্বুলেন্স যোগে নিজ বাড়ীতে আসেন। এসময় হাজার হাজার নেতাকর্মীর ভিড় দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের নিয়ে মা,বাবা ও ভাইসহ পরিবাবের লোকদের কবর জিয়ারত করেন মু্ক্তিযোদ্ধা জয়নাল হাজারী। জয়নাল হাজারির আগমন উপলক্ষে মাস্টারপাড়া সহ ফেনীর সার্বিক নিরাপত্তা কঠোর ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

গতবছর জয়নাল হাজারী জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমার এখন আওয়ামী রাজনীতিতে কিছু দেয়ার নেই। কোনো কর্মসূচি নেই। কোনো পরিকল্পনা নেই। শুধুমাত্র নেত্রী (শেখ হাসিনা) যে আদেশ দেবেন সেটা পালন করব। এর বাইরে কিছু করার নেই।’

জয়নাল হাজারী ১৯৮৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-২ (সদর) আসন থেকে ১৯৮৬, ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

দীর্ঘদিন ফেনীর রাজনীতিতে দলীয় প্রতিপক্ষের কোনঠাসায় রাজধানীতে বসবাস করেন একসময়ের দাপুটে আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারী। ২০০১ সালের ১৭ আগস্ট যৌথবাহিনীর অভিযানের মুখে ফেনী ছেড়ে দেশান্তরী হন ওই সময়ের আলোচিত এ গডফাদার। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার প্রথম মেয়াদে ক্ষমতাসীন হলে ৬০ বছরের সাজা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে কারান্তরীণ হন। একে একে সবকটি মামলায় খালাস পেলেও হারানো রাজ্য আর ফিরে পাননি। বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারীর দাপটের মুখে ফেনী প্রবেশও বন্ধ হয়ে যায় তার।

‘আমি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কারোর কাছে বলিনি বা ইচ্ছাও প্রকাশ করিনি। নেত্রী বলেছিলেন এখন চুপচাপ থাকো। এতদিন চুপচাপ ছিলাম। নেত্রী বলেছেন এখন আবার আসেন। আবার এসে গেলাম।’

তখন তার ধারণা ছিল, ফেনীর সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু তার এখন আর তেমন কোনো শক্তি নেই যে তিনি ফেনী ফিরে গিয়ে সবকিছু ঠিক করে ফেলবেন। তিনি ফেনীতে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত এখনও নেননি। তবে যদি শেখ হাসিনা বলেন তাহলে তিনি ফিরে যাবেন, সক্রিয় হবেন। এমনকি তিনি (শেখ হাসিনা) চাইলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনও করবেন।

Facebook Comments

Related Articles