দেখতে যতোটা রোমাঞ্চকর, ততোটা সহজ নয় টিভিতে খেলা সম্প্রচার

রবিবার,২ আগস্ট,২০২০

টিভিতে খেলা দেখার মধ্যে আসলে আলাদা মজা আছে।সমস্ত ঘটনার তাৎক্ষনিক নিখুঁত বিশ্লেষণ,সত্যিই দারুন!
আজ তাহলে এর পেছনের দৃশ্যগুলো নিয়ে একটু কথা বলি।

ক্রিকেট মাঠে একটা ম্যাচ সম্প্রচারের জন্য মোটামুটি ২৮ টি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়,স্পাইডার ক্যামসহ।এর মধ্যে ৭টিই থাকে মোশন ক্যামেরা,অতি নিখুঁত বিশ্লেষনের জন্য।

একটা ক্রিকেট ম্যাচ ব্রডকাস্ট করার ক্ষেত্রে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে কন্ট্রোল রুম।আসলে,একটা আন্তর্জাতিক ম্যাচ সম্প্রচারের চার দিন আগে থেকেই এ জায়গাটায় দারুন তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়।এখানে সার্বক্ষণিক উপস্থিতি থাকে প্রোডিউসার,এক্সিটিউভ প্রোডিউসার,১১ জন ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেটর,ডিরেক্টর,ভিশন মিক্সার,৩ জন সাউন্ডম্যান,৫ জন গ্রাফিক অপারেটর,৩ জন হক আই বিশেষজ্ঞ,৫ জন স্যাটেলাইট অপারেটর,৬ জন ইভিএস অপারেটর(রিপ্লে দেখানোর ক্ষেত্রে এরা কাজ করে),আটজন ফাইনাল এডিটর(রিগার বলা হয়) এবং একজন পরিসংখ্যানবিদের।স্নিকারের জন্যও আলাদা অপারেটরের দরকার পরে।এদের মধ্যে স্ট্যাটিস্টিশিয়ান,প্রোডিউসার এরা সাধারনত কমেন্টেটরদের সাথে বক্সে অবস্থান করেন।বক্সটা কন্ট্রোল রুমের ঠিক উপরে থাকে।

ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেটরদের কাজ সবার আগে শুরু হয়।এরা মনিটরগুলি প্রস্তুত করা,ক্যামেরা এবং কমেন্ট্রিবক্সের সাথে কন্ট্রোল রুমের নিরবিচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপন,সাউন্ড চেকিং,আর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ইন্সটলেশন জাতীয় কাজগুলি করে থাকেন।মাঠে যতগুলা ক্যাবল ইউজ করা লাগে,তাদের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ২ মাইল।যাক,এরপর,ম্যাচের সময় ভিশন মিক্সারের কাজ থাকে প্রচুর,ডিরেক্টরের সার্বক্ষণিক নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে একটা সব শেষে চাহিদামতো দৃশ্য প্রস্তুত করতে হয়,যেটা টিভিতে সবাই দেখছে,স্যটেলাইট অপারেটরদের হাতে আসার পরে।
ম্যাচের সময় টিভির নিচের দিকে যেখানে সারাক্ষন স্কোর দেখানো হয়,সেটা আসলে ‘ফ্রুট মেশিন’ নামে একটা বিশেষ গ্যাজেটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।ডিরেক্টরের সার্বক্ষণিক শ্যেন দৃষ্টি কেউ এড়াতে পারে না!এখানে নিঃশব্দ থাকতে হয়।
ম্যাচ শুরু হওয়ার তিন ঘন্টা আগেই এদের সবাইকে মাঠে উপস্থিত থাকা লাগে।যেতেও হয় শেষ হওয়ার ঘন্টা তিনেক পর।

রেকর্ড করা চলমান চিত্রগুলি স্টেডিয়াম থেকে টিভি পর্দায় আমাদের সামনে ৭ থেকে ১২ সেকেন্ড পরে আসে।রেকর্ডকৃত চিত্রগুলির মধ্যে অপ্রত্যাশিত কিছু না রাখার উদ্দেশ্যেই এ একাজটা করা হয়।এটাকে ব্রডকাস্টিং ডিলেয় বলা হয়।

ক্যামেরা ক্রুদের কথায় আসি।
বর্তমানে স্পোর্টস ক্যামেরা পার্সন হিসেবে কাজ করতে হলে,ইউএস ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের নীতি অনুযায়ী,ব্রডকাস্টিং এন্ড কমিউনিকেশনের এর উপর ব্যাচেলর ডিগ্রী থাকা আবশ্যক।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে,যারা এ ডিগ্রী প্রোভাইড করে।এরপর ইন্টার্নশিপ কমপ্লিট করতে হয়,বাস্তবিক জ্ঞান অর্জনের জন্য।এছাড়া ভিডিও এডিটিং,লাইটিং,ডিজাইনিং,যোগাযোগ নীতি,মিডিয়া আইন এসবের উপরেও কিছু এডিশনাল কোর্স করা লাগে।

এই ফিল্ডে বর্তমানে চাহিদা ধীরে ধীরে বাড়ছে।আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী একজন ক্যামেরা ক্রু বছরে ৫৯ হাজার ডলার পর্যন্তও আয় করতে পারে।অনেকে আবার সুনির্দিষ্ট কোন এজেন্সীতে জয়েন না করে ফ্রিল্যান্স ক্যামেরা ক্রু হিসেবে কাজ করে।
আপাতদৃষ্টিতে একটা সুন্দর ম্যাচ দেখার ক্ষেত্রে এরাই আসলে মূল ভূমিকা পালন করে।

সত্যি বলতে,ম্যাচের দৃশ্য যতটা দারুন,পেছনের দৃশ্যগুলো তাঁর চেয়ে অনেক বেশি জটিলই বলা চলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
দেওয়ান মাহতাব দিদার

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles