ফেসবুকে হাজারো বন্ধু,বাস্তবে কতো?

রবিবার,২ আগস্ট,২০২০

সামাজিক মাধ্যমের সুবাধে নিজের আশেপাশের গন্ডি পেড়িয়ে বন্ধুত্বের সার্কেল হচ্ছে বৃহৎ।
দেশের প্রতিটি জেলা ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও বন্ধু তৈরি হয় ফেসবুক,ইন্সটাগ্রামসহ আরো অনেক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দৌরাত্ম্যে।
এইযে এতো এতো ভার্চুয়াল বন্ধুর ভিড়ে কখনো প্রশ্ন করেছেন আমার প্রাত্যহিক জীবনে প্রকৃত বন্ধুর সংখ্যা কতো?

জুলাই মাসের ৩০ তারিখে ছিলো বিশ্ব বন্ধুত্ব দিবস।
এইবার ঈদ উল আযহা’র কারনে প্রতিবারের মতো ফেসবুকে কেন যেন দেখা যায় নি বন্ধু-বান্ধবদের সাথে ছবি সাথে গুগুল থেকে ডাউনলোড করা উক্তি দিয়ে পোস্ট। আসলে বন্ধুত্বের মাহাত্ম্য কি এতোই ছোট যে এক উৎসবের আড়ালের ঢেকে যাবে?

লাইক,প্রসংশা করে কমেন্ট আর প্রতিটি পোস্ট শেয়ার করে এমন ব্যাক্তিই আমার বন্ধু ভেবে যাওয়া লোকগুলো বাস্তবে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মতো,হতাশার সময়ে পাশে পাওয়ার মতো,দুই একটি কথা শোনার মতো মানুষকে কাছে পায় না।
অতঃপর কিছুদিন পর শোনা যায়,ডিপ্রেশন পড়ে অমুকের আত্মহত্যা। আত্মহত্যার আগে দু-একটি কথা ভাগাভাগি করার মতো কাউকে পায়নি সে। পায়নি কমেন্টের প্রসংশা করা এবং চ্যাট লিস্টে সবার উপরে থাকা বন্ধুকে।

এক সাথে বেড়ে উঠা, একসাথে দুষ্টুমি করা, হাইস্কুলে ক্লাস ফাকি দেওয়ার জন্য স্যারের কাছে একইসাথে কান ডলা খেয়ে গড়ে উঠার বন্ধুত্বের সাথে লাইক,কমেন্ট,শেয়ারের ভিত্তিতে গড়ে তোলা বন্ধুর সাথে তুলনা করা বোকামি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আমাদের বলেছিলো আমাদের সবাইকে কাছে আনবে,বন্ধুত্বের বন্ধন করবে আরো শক্ত। কিন্তু দেখা গেলো বিপদে সামাজিক মাধ্যমে মিছে কান্না দেখানো বন্ধুদের সামনে এনে দূরে ঠেলে দিয়েছে একই সাথে কাধেকাধ মিলেয়ে বিপদের বিপক্ষে লড়ে যাওয়ার মতো বন্ধুদের..

নিউজফিড ঘুরতে ঘুরতে অচেনা মানুষকে চিনতে চিনতে কখনো চেনা হয় নি পাশেই থাকা লোকটিকে। যার ফলে অনেক স্বার্থপর লোকদেরও বানিয়ে ফেলি বন্ধু। যার ফলে ফাহিম সালেহ’র মতো প্রতিভাবানদের মৃত্যু হয় বন্ধুর হাতে। কলংকিত হয় “বন্ধুত্ব” শব্দটি। এখন বলুন তো এইখানে বন্ধুত্বের দোষ নাকি আমাদের?

ফেসবুকে বন্ধুর সংখ্যা পাঁচ হাজারের সীমা অতিক্রম করা লোকটির প্রাত্যহিক জীবনে আদৌও কোন বন্ধু আছে কিনা সন্দিহান আর থাকলেও বিপদে পাশেথাকার মতো কিনা নাকি বন্ধুর বেশে হয়তো লুকায়িত শত্রু। কারন সামাজিক মাধ্যমে বন্ধুর সংখ্যা পাঁচ হাজার করার ভিড়ে হারিয়ে ফেলেছে “আরে দোস্ত সমস্যা নাই,আমি আছি” বলার মতো বন্ধু।

তাই বলি সামাঝিকমাধ্যমে “hi” লিখে উত্তরের অপেক্ষায় না থেকে বাস্তব জীবনে পাশেই থাকা বন্ধুকে বলেন ,” আয় দোস্ত, গল্প করি”
বিশ্বাস করুন,বন্ধুত্ব দিবসে গুগুল থেকে ডাউনলোড করা শুভেচ্ছা বার্তা না পেলেও একটি জোরে শক্ত করে আলিঙ্গন পাবেন।
যেই আলিঙ্গনে পাবেন না কোন মিথ্যা প্রসংশা,মিথ্যা আশ্বাস। শুধু পাবেন নিজের ভাই/বোনের মতো এক সুবাশ এবং অনুভূতি

ভালো থাকুক পাশে থাকা বন্ধুগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিজান শেখ

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles