ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘ ৩৪ বছর পর বড়সড় রদবদল

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২০
বিকেল ৪.০০

সম্প্রতি স্কুল লেভেল থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষাব্যবস্থায় নয়ানীতি প্রণয়ন করেছে ভারত সরকার। স্কুলশিক্ষায় পাঠদানের পদ্ধতি পরিবর্তন, উচ্চশিক্ষায় মাল্টিপল এন্ট্রি-এক্সিট ব্যবস্থা, ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশান গঠন- ইত্যাদি নতুন জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ এর আওতাভুক্ত হয়েছে। গত ২৯ জুলাই, বুধবার এই নতুন নীতিতে সীলমোহর দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এই নতুন নীতি অনুসারে, প্রি-প্রাইমারি লেভেলে মূল শিক্ষাব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না আনলেও বেশ বড় বদল ঘটেছে একাদশ, দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যক্রমের ধরণে। একইসাথে বোর্ড পরীক্ষা গুলোকেও কম গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে নতুন শিক্ষানীতিতে। এছাড়া উচ্চশিক্ষাতেও চালু হচ্ছে স্কুলের মতো “মাল্টি এডুকেশান সিস্টেম” এবং “মাল্টিপল এক্সিট এন্ট্রি সিস্টেম”, যাতে থাকবে “মেজর ও মাইনর” ব্যবস্থা। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন শিক্ষানীতিতে গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা।

স্কুল লেভেলের বার্ষিক পরীক্ষা এবার থেকে নিয়মিত হওয়ার বদলে শুধুমাত্র তৃতীয়, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে চালু থাকবে। পরিবর্তন আসবে শুধু পাঠদানের পদ্ধতিতে। দশম স্তর পাশের পর উঠে যাবে বিভাগীয় শিক্ষাব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে নবম- দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৮ টি সেমিস্টারে ভাগ করে পড়ানো হবে। এ প্রসঙ্গে স্কুলশিক্ষা সচিব বলেছেন, ” পদার্থবিদ্যা/রসায়নের সাথে বেকারিও শিখতে পারে, আবার রসায়নবিদ্যার সাথে ফ্যাশন টেকনোলজিও পড়তে পারে। একই সঙ্গে সব বিষয় পড়ানো হবে। এ ছাড়া ভোকেশনাল বিষয় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শিখানো হবে।”

উচ্চশিক্ষায় পরিবর্তন বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠকে উচ্চশিক্ষা সচিব জানান, ” ব্যবস্থা এমন হবে যে, প্রথম এক বছর সম্পূর্ণ করলে সার্টিফিকেট কোর্স, দু’বছরে ডিপ্লোমা ও চার বছরে ডিগ্রি দেয়া হবে। কিন্তু কেউ এক বছর সম্পূর্ণ করার পর ছেড়ে দিয়ে আবার ভবিষ্যতে পড়তে চাইলে ওই প্রথম বছর আর পড়তে হবে না। সেমিস্টার ভিত্তিক পঠনেও একই নিয়ম কার্যকর হবে।”

স্নাতকোত্তর ব্যবস্থাতেও কেউ গবেষণা করতে চাইলে চার বছরের ডিগ্রি কোর্স করতে পারবে এবং এমফিল ছাড়াই সরাসরি পিএইচডি করার সুযোগ পাবে, যা হবে গবেষকদের জন্য সময় সাশ্রয়ী।

দীর্ঘদিনের এই রদবদলের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মূল্যায়ন পদ্ধতিও। এক্ষেত্রে রিপোর্ট কার্ডে শিক্ষার্থী নিজে, তার সহপাঠীরা এবং শিক্ষকবৃন্দ মূল্যায়ন করবেন। তাছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও মূল বিষয়ের সহযোগী সাব্জেক্ট গুলোর পাশাপাশি সঙ্গীত, চিত্রকলার মতো বিষয়গুলোও পড়ার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক করে দেয়া হয়েছে মাতৃভাষা ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোশিন অয়ন

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles