কর্ণফুলী টানেলের ২টির মধ্যে একটা টিউবের কাজ শেষ

কর্ণফুলী টানেলের বর্তমান দৃশ্যটা একটি বড় মাইলফলক। শেষ হয়েছে একটা টিউবের কাজ।

মহামারীর প্রভাব সত্ত্বেও চায়না কমিউনিকেশনস কন্সট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড সিসিসিসি গতকাল কর্ণফুলী টানেলের বাম সারির কাজ সম্পন্ন করার মাধ্যমে বিরাট সাফল্য অর্জন করেছে।

শিল্ড সেকশনের দুই-টিউব এবং চার-লেন বিশিষ্ট নকশার এই কর্ণফুলী টানেল চট্টগ্রাম শহরকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ের সাথে যুক্ত করে। এই মাল্টি-লেন রোড টানেল প্রকল্পটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নদীর তলদেশে স্থাপিত টানেল এবং চীনা কোম্পানির তৈরি প্রথম বড়-ব্যাস বিশিষ্ট নদীগর্ভস্থ টিবিএম টানেল। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম শহরের যানচলাচল ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতির পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। এটি এশিয়ার মহাসড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং তার প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সংযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

২০১৮ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি কর্ণফুলী টানেলের খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিন তিনি টানেল প্রকল্পের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড পরিদর্শন করেন। ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ টানেলটি পতেঙ্গার নেভাল অ্যাকাডেমি পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে কাফকো ও সিইউএফএল পয়েন্টের মাঝখান দিয়ে কর্ণফুলী নদীর ওপারে গিয়ে উঠবে।

কর্ণফুলী নদীর নিচে ১৮ থেকে ৩১ মিটার গভীরতায় দুটি টিউব বসানোর মাধ্যমে টানেলটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মূল টানেলের দৈর্ঘ্যের মধ্যে টিউবের দৈর্ঘ্য হবে ২ হাজার ৪৫০ মিটার। প্রতিটি টিউব চওড়ায় হবে ৩৫ ফুট এবং উচ্চতায় প্রায় ১৬ ফুট। টিউব দুটির একটি দিয়ে শহর থেকে গাড়ি প্রবেশ করবে। আরেকটি টিউব দিয়ে ওপারে যাবে। এজন্য কর্ণফুলীর পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজও তৈরি করা হবে। টিউব বসানোর জন্য খনন কাজের পাশাপাশি দুই পাশের অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণের কাজও সমানতালে চলছে।

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুমোদন পায়। এটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রকল্পে ঋণ হিসেবে চাইনিজ এক্সিম ব্যাংক ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার অর্থায়ন করছে। বাকি টাকা বাংলাদেশ সরকার ব্যয় করবে।

Facebook Comments

Related Articles