করোনা চিকিৎসায় ফুসফুস ট্রান্সপ্লান্টে সফলতার মুখ দেখলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

মায়রা রামিরেজ বলেছেন যে করোনা ভাইরাস উপসর্গযুক্ত নিয়ে তিনি যখন শিকাগো হাসপাতালে ভর্তি হবেন তার আগে থেকেই তিনি যতটা স্বাস্থ্যসম্মত সতর্কতা অবলম্বন করা যায় তা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন।

২৮ বছর বয়সী এই যুবতী ২৬ এপ্রিল নর্থওয়েস্টার্ন মেমরিয়াল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি রুমে এসে পৌঁছানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা শুরু হয়েছিল এবং তার কাছে তার পরিবারকে ডাকার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল না!

তিনি সিএনএনকে বলেন, “আমার মনে পড়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছিল কেননা আমাকে ইনকিউবেশন করা হচ্ছিল এবং তারপরে ছয় সপ্তাহের সম্পূর্ণ দুঃস্বপ্ন,” তিনি সিএনএনকে বলেছেন “কিছু দুঃস্বপ্নের মধ্যে আমি অনুভব করি যে আমি পানিতে ডুবে যাচ্ছি এবং আমি একেবারেই নিশ্বাস নিতে পারছিলাম না”

তিনি বলেন,করোনাভাইরাস তার শরীরে মারাত্মক ক্ষতি করেছিল: তার ফুসফুস অপরিবর্তনীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল এবং অন্যান্য অঙ্গগুলি ব্যর্থ হতে শুরু করেছিল। রামিরেজ এক মাসেরও বেশি সময় ভেন্টিলেটরে কাটানোর পরে, তার পরিবার নর্থ ক্যারোলিনা থেকে তাকে শেষ বিদায় জানার জন্য এসেছিল। কেননা ডাক্তাররা ঘোষণা করেছিলেন যে তার বেঁচে থাকা একেবারেই অনিশ্চিত।

তার জীবন বাঁচানোর জন্য একটি বিকল্প ছিল: ডাবল-ফুসফুস ট্রান্সপ্ল্যান্ট।

শিকাগোর নর্থ-ওয়েস্টার্ন মেডিসিনের থোরাসিক সার্জারির প্রধান ডাঃ অঙ্কিত ভারত বলেন “প্রতিস্থাপন না করে তার বেচে থাকা সম্ভব ছিল না, এবং ভাইরাসটি রামিরেজের শরীরে একাধিক জটিলতা তৈরি করেছিল।

রামিরেজ বলেন যে যেহেতু তিনি যুবতী ছিলেন এবং অন্যথায় সুস্থ ছিলেন, তাই এই বিরল পদ্ধতির জন্য তিনি খুব ভাল প্রার্থী ছিলেন।

রামিরাজ ট্রান্সপ্লান্টের পর এনেস্থিসিয়া থেকে উঠার পর বলেন “আমি নিজের দিকে তাকিয়ে ছিলাম এবং নিজের শরীরকে তিনি চিনতে পারছিলেন না,”। “আমি কথা বলতে পারছিলাম না, আমি খুব কষ্ট করে আঙুল তুলতে পারছিলাম শুধু, আমি নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। আমি প্রচন্ড ব্যথায় ছিলাম এবং আমি খুব বিভ্রান্ত ছিলাম।”

নর্থওয়েস্টার্ন মেডিসিন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রামিরেজ হচ্ছেন প্রথম আমেরিকান নাগরিক, যিনি করোনা ভাইরাস এর সাথে যুদ্ধের পরে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। অস্ত্রোপচারের পরে এখন প্রায় দুই মাস হয়ে গেছে এবং তিনি ঘরে ফিরেছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি এখনও দুর্বল এবং শ্বাস নিতে লড়াই করছেন।

তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এমন ৪.৬ মিলিয়নেরও বেশি আমেরিকানের একজন। কমপক্ষে ১৫৪,৮৬০ জন মানুষ মারা গেছে।

রামিরেজ বলেন “এটি কোনও প্রতারণা নয়,এই ভাইরাসটি সত্য, আমার ক্ষেত্রে এটি ঘটেছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক – সামিন ইসফাক

Facebook Comments

Related Articles