বিস্ফোরণে তীব্র সংকটে লেবাননের চিকিৎসা ব্যবস্থা

বুধবার,৫ আগস্ট,২০২০

বাইরুতের বিস্ফোরণস্থলের ১ কিলোমিটারের ভিতরে থাকা সেন্ট জর্জ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একজন চিকিৎসক ডা.আবুর।রক্তাক্ত অবস্থায় এই চিকিৎসক ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা ইনডিপেনডেন্টকে জানান,”এটা আমার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্য।জরুরি বিভাগের ভারী দরজা জানালা উড়ে গেছে।অনেক গুরুতর অবস্থায় থাকা রোগী যারা ভেন্টিলেটরে যুক্ত থাকতে পারেননি,তাদের যাদের কাছে পারি ছুটে গেছি।অনেকের রক্তাক্ত ক্যানুলা ছুটে গেছে,অনেককেই অক্সিজেন সাপ্লাই বন্ধ হয়ে মারা যেতে দেখেছি।” ডা.আবুর নিজেও আহত অবস্থায়ই চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন।
বিস্ফোরণে সেন্ট জর্জ হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগও সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।হাসপাতালের সঙ্গে লাগোয়া গাড়ি পার্কিং এরিয়াতে চিকিৎসকগণ আহতদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছিলেন।এর মধ্যেই তাদের অপর একটি দল নিয়োজিত ছিলো হাসপাতালে ইতোমধ্যে ভর্তি গুরুতর রোগীদের সেবাদানে।চিকিৎসকদের অনেকে আহাজারি করে বলছিলেন,”আমাদের বিদ্যুৎ সংযোগও নেই।জরুরি চিকিৎসা কিভাবে চালিয়ে যাবো আমরা?”ক্রন্দনরত অবস্থায় অপর এক নার্স বলছিলেন,”এটা বিপর্যয়।ভয়ংকর বিপর্যয়।আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
প্রায় ১৫ বছর ধরে দায়িত্ব পালনরত,ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধকালে সেবাদানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন অপর এক ৫৬ বছর বয়সী নার্স জানান,”বিস্ফোরণটা একদম বুকে এসে লেগেছে।মনে হচ্ছিলো এটম বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে।রাস্তাঘাট ভাঙা জানালার কাচে সয়লাব হয়ে গেছে।”অপর এক শিক্ষানবীশ তরুণ চিকিৎসক জানান,”রক্তে সবকিছু ঢেকে গেছে।এখানকার তিনটা হাসপাতালের একটি আমরা,তিনটাই পূর্ণ হয়ে গেছে।জানি না কিভাবে লেবানন এই পরিস্থিতি সামলাবে।” তিনি জানান,তিনি নিজেও বহু কষ্টে তার এক বন্ধুর লাশ উদ্ধার করেছেন ধ্বংসস্তুপ থেকে।
বিস্ফোরণস্থলের নিকটবর্তী অপর এক হাসপাতাল ডাই ইউ ডি ফ্রান্সের ৩১ বছর বয়সী চিকিৎসক ডা.ইমাদ বলেন,”নিজের চোখেই ১২ জনকে দেখলাম মৃত্যুবরণ করতে।অধিকাংশেরই ইন্টারনাল ব্লিডিং হচ্ছিলো,অনেকের হেড ইঞ্জুরিও ছিলো।আমাদের এখানে আর কোন জায়গাই নেই।অনেক বেশি রোগী হয়ে গেছে।জানিনা কিভাবে এই অবস্থা সামাল দিবে আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থা।”এই হাসপাতালটি বাধ্য হয়ে কিছু রোগীকে ফিরিয়ে দিচ্ছিলো।এসব রোগীদের বাইরুতের বাইরে অন্য হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে।
বিস্ফোরণের আগেই হাসপাতালগুলো কার্যত পূর্ণ হয়ে ছিলো।বাইরুতের রাফিক হারিরি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন ফিরাস আবাইদ গত বুধবার টুইটে বলেছিলেন,তাদের হাসপাতাল ইতোমধ্যেই করোনা ভাইরাস রোগী দিয়ে পূর্ণ হয়ে গেছে।
সূত্র independent.co.uk

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles