লেবাননে বিস্ফোরণের পেছনে ইসরাইল এর হাত থাকার সম্ভাবনা কতোটুকু?

প্রথমেই বলে নেই লেখক এইখানে শুধু সম্ভাবনা কতোটুকু তাই দেখানোর চেষ্টা করেছে।

ছবিটা ভাল করে খেয়াল করুন। ছবিটা ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের যখন ইসরাইল এবং লেবাননের ভেতর উত্তেজনা চলছিল এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু পার্লামেন্টে ম্যাপ হাতে চিহ্নিত করে দেখিয়ে দেন লেবাননের ঠিক কোন কোন জায়গায় হিজবুল্লাহর গাইডেড মিসাইলের গুদাম আছে!! এর জন্য তিনি তিনটি সাইট নোটিশ করেন – সাইট১, সাইট২, সাইট৩

এই সাইট ২’ই হলো রাজধানী বৈরুৎ সেই পোর্ট এরিয়া, যেখানে গতকাল বিস্ফোরণ হয়েছে। ঠিক এই জায়গাতেই মজুদ থাকত ইরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে আসা হাই এন্ড ড্রাই এক্সপ্লোসিভস, গাইডেড মিসাইল সহ আরো অনেক সফিস্টেকেটেড ওয়েপন। এছাড়াও এখানে ছিল নাইট্রেট স্টোরেজ। হিজবুল্লাহ এধরণের মিসাইলের মাধ্যমে ইসরাইল কিংবা অন্যান্য স্থানে হামলার পরিকল্পনা করছিল। আর অন্যদিকে ইসরাইল বহুদিন যাবত লেবাননকে (হিজবুল্লাহ) হুমকি দিয়ে আসছিল এই মিসাইল সরিয়ে ফেলার জন্য, কারণ সেগুলো ইসরাইলের অস্তিত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ ছিল।
এইখানে কাকতালীয় ভাবেই কি দুইয়ে দুইয়ে চার হয়ে গেলো?

আরো ঘটনা এখনো বাকি। হামলার আগেরদিনও নেতানিয়াহু তার অফিসিয়াল টুইটার একাউন্টে হিজবুল্লাহকে থ্রেট দেন এবং কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া সীমান্ত উত্তেজনার পর এক সাক্ষাৎকারে বলেন “লেবানন আগুনের সাথে খেলছে” একইসাথে হামলার পর বিজয় উল্লাস করে টুইট করে বলেন “We hit cell and now we hit the dispatchers. We will do what us necessary in order to defend ourselves”. বাহ এইখানেও দুইয়ে দুইয়ে চার

আমরা নিশ্চই একটা ভিডিওতে দেখেছি, যেখানে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কোনো একটি বস্তু টার্গেট হিট করার পরপরই বিশাল সেই বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন সেটা নাকি মিসাইল ছিল। কিন্তু অনেকেই বলছে সেটা ক্রুজ মিসাইল না,হিট করতে যাওয়া বস্তুটির উইংস এবং গঠন দেখে সুইসাইড ড্রোন বলেই মনে হয়েছে অনেকের। এই ধরণের ড্রোনগুলো হাই এক্সপ্লোসিভ বহনে সক্ষম, এবং খেয়াল করুন যেখানে হিট করেছে সেটা রাসায়নিক দ্রবাদির গুদাম ছিল যার ফলেই এতো বড় বিষ্ফোরণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক
সিজান শেখ

Facebook Comments

Related Articles