সাহেদকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেছে দুদক

রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদের বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। বেসরকারি পদ্মা ব্যাংক থেকে নেয়া ঋণের এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদকে দশ দিনের রিমান্ডে নিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে এ আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।
শুনানির বিষয় এখনো দিন ধার্য হয়নি। এর আগে ২৮ জুলাই সাহেদকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত ৫ আগস্ট তার গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। কিন্তু সাহেদ অন্য মামলায় রিমান্ডে থাকায় এ দিন গ্রেফতার দেখানোর আবেদনের শুনানি হয়নি।
এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সাহেদ এক কোটি টাকা ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করেননি। পরে সুদসহ ব্যাংকের পাওনা দাঁড়ায় ২ কোটি ৭১ লখ টাকা।
মামলায় সাহেদ ছাড়াও পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক দি ফারমার্স ব্যাংক) পরিচালনা পর্ষদের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতি ওরফে বাবুল চিশতি, বকশীগঞ্জ জুট স্পিনার্স লিমিটিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাবুল চিশতির ছেলে রাশেদুল হক চিশতি, রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ করে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তরের মাধ্যমে ঋণের নামে পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক), গুলশান কর্পোরেট শাখার ১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে ২২ জুলাই এনআরবি ব্যাংকের ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মো. সাহেদসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।
উল্লেখ্য,করোনার পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানসহ চিকিৎসার নামে প্রতারণা ও জালিয়তির অভিযোগে ৬ জুলাই এক অভিযানে ঢাকায় রিজেন্টের দুটি হাসপাতাল বন্ধ করে র‌্যাব। পরে ওই হাসপাতালের অনুমোদন বাতিল করে স্বাস্থ্য বিভাগ। এ ঘটনায় করা মামলায় ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা দেবহাটা সীমান্ত থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

Facebook Comments

Related Articles