সিনহা যে কারণে চাকরি ছেড়েছিলেন

মেজর সিনহা ছিল কম্যান্ডো ট্রেনিং প্রাপ্ত চৌকস এক সামরিক অফিসার। এস এস এফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স ) এ সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পেশাল নিরাপত্তা কর্মী।

শুধুমাত্র সেরাদের সেরা হলেই প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের সুযোগ মেলে। মেজর সিনহা ছিলেন সেরাদের সেরা।

খুব অল্প বয়সে নিজের মেধা, যোগ্যতা এবং দক্ষতায় মেজর সিনহা অন্য সকলের চেয়ে আলাদা একজন সামরিক বীর হিসেবে নিজেকে পরিচিত করে গড়ে তোলে। ব্রিগ্রেড মেজরের মত সম্মানজনক পদে সে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে। সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে।

সেনাবাহিনীতে তার বন্ধু, কোর্সম্যাট, জুনিয়র, সিনিয়র সকলে এক নামে মেজর সিনহাকে চিনত। মেজর সিনহা চিনত একজন সৎ সাহসী আর্মি অফিসার হিসেবে। ফিটনেস, ফায়ারিং সকল ক্ষেত্রে মেজর সিনহা ছিল চৌকশ, তেজদিপ্ত।

সেনাবাহিনীতে মেজর সিনহার চাকুরী বয়স ছিল ষোল বছর।

মাত্র চৌত্রিশ বছর বয়সে মেজর সিনহা সেনাবাহিনীর মর্যাদাপুর্ন সরকারী চাকুরী থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করে।

কারণ সিনহা আর আট দশটা মানুষের মত সাধারণ জীবন কাটাতে চায়নি।

সিনহা চেয়েছিল এভারেস্ট জয় করতে।

সিনহা বিশ্ব ভ্রমণে বের হতে চেয়েছিল। সাইকেলে চড়ে সে জাপান ভ্রমনে যেতে চেয়েছিল। সিনহার কাছের বন্ধুদের তথ্য মতে সে উপভোগ করতে চেয়েছিল পৃথিবীর রং রূপ গন্ধ। বিশ্ব ভ্রমণের জন্য সে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করে নিচ্ছিল। সংসারে জড়ায়নি সে।

সিনহা চেয়েছিল জীবনকে জীবনের মত উপভোগ করতে । প্রতিটা বাঙ্গালী হয়ত এডভেঞ্চার চোখে দুঃসাহসী কিছু স্বপ্ন দেখে কিন্তু বাস্তবে কোনদিন রূপ দিতে পারে না। সিনহা সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিল।

মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান সিনহা খুব বইপড়ুয়া ছিল। লাইব্রেরী ছিল তার বন্ধু।

হিমছড়িতে অবস্থান করে সিনহা এক মাস ধরে একটি ট্র্যাভেল ভিডিও ডকুমেন্টারির কাজ করছিল। ভিডিও ধারণের কাজ সেরে হোটেলে ফেরার পথে টেকনাফে তাকে গুলি করে মেরে ফেলা হয়।

সেনাবাহিনীর একজন তুখোড় অফিসারকে প্রকাশ্যে গুলি করে রাস্তায় মেরে ফেলা হল কোথাও কোন ব্যাখা নেই।

গুলি করবার সময় সিনহার পরনে ছিল তার প্রিয় সামরিক বাহিনীর পোশাক সদৃশ টিশার্ট, ট্রাউজার, বুট।

সিনহা হয়ত চেয়েছিল গল্পের মাসুদ রানাকে বাস্তবে রূপ দিতে। সিনহা হয়ত বেয়ার গ্রিলসের মত আফ্রিকার দুর্গম পথে হেঁটে বেড়াতে চেয়েছিল যেখানে পদছাপ পড়েনি আজ পর্যন্ত কারো।

সিনহা হয়ত কাঁধে ছোট্ট একটা ব্যাকপ্যাক নিয়ে খুব দ্রুত দুঃসাহসী সব অভিযানে বিশ্ব ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ত, যা ছিল তার স্বপ্ন।

ভীতু ঘরকুনো বাঙ্গালীদের মাঝে একজন স্বপ্নবাজ মেজর সিনহা ধীরে ধীরে গড়ে উঠছিল

আমরা তাকেও হারিয়ে ফেললাম।

  • লেখাঃ রাফিউজ্জামান সিফাত

Facebook Comments

Related Articles