নটরডেম কলেজে কেন পড়বো? পর্ব-৩

শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২০

গত জুন মাসে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হলো। পরীক্ষার্থীর আন্তরিক চেষ্টার পরে ফলাফল যত পয়েন্টই হোক না কেন, আমার কাছে সেটাই ভালো ফলাফল। চেষ্টার উপরে তো কিছু নাই। তবে যারা ফাঁকিবাজি করে আর অলসভাবে সময় কাটিয়ে খারাপ ফল করে এখন সহানুভূতি কুড়ানোর চেষ্টা করছে, তাদের জন্য কোন সমবেদনা প্রকাশ করতে পারছি না।

যাই হোক, ইতিমধ্যে ক্যাথলিক চার্চ পরিচালিত ঢাকার কয়েকটি স্বনামধন্য কলেজে ভর্তির আবেদনের ব্যাপারে জানিয়ে দেয়া হয়েছে, অতিশীঘ্রই বাকি কলেজগুলোও তাই করবে। আমি আমার ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতাটুকু ভাগ করে সবাইকে জানাতে চাই কেন ছেলেদের নটরডেম কলেজে পড়া উচিত। যেহেতু মেয়েদের পড়বার উপায় নাই আর মেয়েদের জন্য অনেক ভালো ভালো কলেজ আছে, সেসব কলেজের অভিজ্ঞরা হয়তো সে ব্যাপারে জানাতে পারবেন।

ফিজিক্স ল্যাবে মেকআপঃ

ফিজিক্স ল্যাবে দুইজন ডেমোন্সট্রেটর ছিলেন। ফিলিপ রোজারিও স্যার আর দবিন স্নাল স্যার। এই দুজন সহজে কাউকে ফিজিক্স ল্যাবে পার পেতে দিতেন না। মেকআপ নামে অদ্ভুত বিভীষিকা একবার হলেও পার করতে হয়েছে বিজ্ঞান বিভাগের সবাইকে। একবার, প্রিজমের ল্যাবে, আমি অসামান্য ঐকান্তিকতার সাথে ল্যাব করে দেখানোর পরে স্যার বললেন, কী করসো এইটা। এবসার্ড। যাও মেকআপ। এটা বলে M. Up লিখে দিলেন খাতায়! এই দুঃখে সেদিনই ইত্তেফাক মোরে গিয়ে প্রিজম কিনে এনে একাধিকবার প্রাকটিস করে, পরের ল্যাবে পার পেয়েছিলাম। এই হলো এ কলেজের ফিজিক্স ল্যাবের আখ্যান!

কলেজ ক্যান্টিনঃ

কলেজ চলাকালে মাত্র পনেরো মিনিটের একটা রিসেস (অবকাশ) ছিল। আমার সবথেকে পছন্দের ছিল এই পনেরোটা মিনিট। ক্যান্টিনে গিয়ে একটা হটডগ ১৪ টাকা, এককাপ চা ৫ টাকা। মোট ১৯ টাকায় পেট-মন শান্তি করে খাওয়া। এই কলেজের চা আমার খাওয়া দুনিয়ার সবথেকে উত্তপ্ত আর সুস্বাদু চা। শুধুমাত্র এই চা কেউ খেয়ে থাকলে কলেজটাকে মনে রাখতে বাধ্য!

MathMagician জহরলাল স্যারঃ

নটরডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হলে জহরলাল স্যারের কথা বলতেই হবে। সর্বদা সাদা শার্ট পরিহিত এই ভদ্রলোকের মাঝে কী যেন লুকিয়ে থাকতো সবসময়। সব থেকে বেশি ভয় পেতাম এই মানুষটাকে, আবার সবথেকে বেশি ভালো লাগতো একই ব্যক্তিকে। স্যারের ক্লাসে একেকটা উক্তি ছিল একেকটা ঐতিহাসিক স্টেটমেন্ট! কয়েকটা বলা যেতে পারে, “কিরে বাপ আছিস কেমন?”, “তোরা গোল্ডেন পায়া আসিস, গোল্ডেন পায়া যাস, মাঝখানে সব ফাঁকা!”, “তোদের তো ওই স্যার ভালো লাগে, যে তিনডা অঙ্ক লাগায় দিলে ছয়ডা আসে।”, “তোরা জানিস না সেটা অপরাধ না, জানতে চাস না সেটা হলো অপরাধ।”, “এখন আরাম করিস না রে বাপ, আজীবন কষ্ট করতে হবে!”, “প্রশ্ন করলে উত্তর পাবি, প্রশ্ন কর”, “যেই মেয়ে এখন তোর মায়ের থেকে বেশি ভালোবাসা দেখাচ্ছে, বিশ্বাস কর, সে একটা ডাইনি!”। আরও অনেক উক্তি আছে স্যারের লিখে শেষ করা যাবে না হয়তো। এই মানুষটার সান্নিধ্য পাবার জন্য হলেও আপনার নটরডেমে পড়ে দেখা উচিত দুই-একবার!

নটরডেম কলেজ অপেক্ষা করছে আপনাকে বরণ করবার জন্য।

লেখক: আজিমুল হক

“নটরডেম কলেজে কেন পড়বো?” এই প্রশ্নের উত্তরে আমাদের সিরিজের বাকি পর্ব গুলো শীঘ্রই আমরা নিয়ে আসবো এই সময়ের মাধ্যমে। সাথে থাকুন।

১ম পর্বের লিংক: https://eisomoy365.com/4732/

২য় পর্বের লিংক: https://eisomoy365.com/5375/

নিজস্ব প্রতিবেদক
অংকন বনিক

“এই সময় ৩৬৫” নিউজ পোর্টাল

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)

সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles