মানবতার সেবায় হাসিমুখ

“বঞ্চিত তোর স্নিগ্ধ হাসি,
হৃদয় মাঝে বাজায় বাঁশি”
এই স্লোগান কে সামনে রেখে কয়েকজন উদ্যমী শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ সালের  ২৬ শে মার্চ গড়ে ওঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন  “হাসিমুখ”। শুধু শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণেই থেমে থাকে নি- হাসিমুখে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন। ১২ জন সদস্য থেকে এখন ২০০+ সদস্যের একটি পরিবার  হাসিমুখ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দুস্থ মানুষের সেবায় স্যানিটেশন ক্যাম্পেইন, ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ডাস্টবিন স্থাপন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, এতিম শিশুদের নিয়ে ইদ উৎযাপন, ইফতার মাহফিল, বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সহ বিভিন্ন ভাবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুঃখ কষ্ট ভাগাভাগি করেছে “হাসিমুখ”। ক্যাম্পাসের পড়াশোনার পাশাপাশি প্রত্যেকটি সদস্য তাদের সর্বোচ্চ পরিশ্রমে আর ভালোবাসায় লালন করে চলেছে “হাসিমুখের” আদর্শ। এতেই থেমে থাকে নি সংগঠনটি-  করোনা তথা বিশ্বমহামারীতে যখন গৃহবন্দী অসহায় মানুষ অনাহারে বা অর্ধাহারে জীবন যাপন করছিলো  তখন প্রথম ধাপে ১১৫ আর দ্বিতীয় ধাপে ১৩০ টি পরিবারকে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।  এছাড়াও  পরিচয় গোপন রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪১ জন শিক্ষার্থীকে করোনাকালীন সময়ে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা অর্থ সাহায্য প্রদান করা হয়।
বন্যার্তদের সহায়তায় এবং বিশ্বমহামারীতে মানুষের একঘেয়েমি দূর করতে ও অবসর সময় কাজে লাগাতে সংগঠনটি আয়োজন করে
” প্রতিভার বিকাশ হোক মানবতার কল্যাণে” নামক একটি ইভেন্ট যেখানে প্রতিযোগীদের দেওয়া রেজিস্ট্রেশন ফি চলে যাবে বন্যার্তদের সহায়তার কাজে।
এভাবেই অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে “হাসিমুখ পরিবার” তাদের সেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রয়াস ব্যক্ত করেছে।
লেখা: বিজয় কুন্ডু

Facebook Comments

Related Articles