সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত কেন বলেছিলেন রেলের কালো বিড়ালের কথা?

আজ, নিশ্চয়ই অনেকে বুঝতে পারছেন সাবেক রেল মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত কেন বলেছিলেন রেল বিভাগে অনেক কালো বিড়াল আছে।এ কথা বলার কারনে দুর্নীতিবাজরা তাঁকেই কালো বিড়াল বানিয়েছিল।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে যে লোকটি তাঁর সততা, মেধা ও শ্রম দিয়ে সংবিধান প্রণয়ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন সেই স্পষ্টবাদী, সত্যের পক্ষে ঠোঁট কাটা ব্যক্তিটিকে কত সহজে মন্ত্রণালয় ও সরকারের মধ্যে থাকা একটি অহংকারী গোষ্ঠী মিলে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করার কিছুদিনের মধ্যে তাঁকে দুর্নীতিবাজ হিসাবে প্রমাণ করার নাটক মঞ্চস্থ করলো।

সেদিনের সেই দুর্নীতির নাটকটি ছিল কাঁচা হাতের লেখা পান্ডুলিপি। কি সে গোঁজা মিল! পিলখানার বিডিআর বর্তমান বিজিবি প্রধান গেইট যা সবসময় বন্ধ থাকে তা রাত ১২টার পরে অদৃশ্য ইশারায় খুলে রাখা হলো যাতে মাননীয় রেল মন্ত্রীর গাড়ির ড্রাইভার টাকা ভর্তি বস্তা নিয়ে ঢুকে পড়তে পারে। যদি ধরে নেই সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত দুর্নীতি করেছেন। তাহলে তিনি কি এতো বোকা ব্যক্তি যে বস্তায় ভরে ঘুষের টাকা শুধু ড্রাইভারকে দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসবেন? যেখানে অনলাইনে ব্যাংকিং কাজ চলে সেখানে বস্তায় ভরে ঘুষের টাকা বাড়িতে আনার দরকার কি!

সত্যি, দিন চলে যায় কিন্তু ইতিহাস পড়ে থাকে।ষড়যন্ত্রের পরিণাম ভালো হয় না।এখন সরকারি দলে কেউ আর সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের মত দুর্নীতিবাজদের কটাক্ষ করে কথা বলতে পারে না।

আজ, সেই রেল মন্ত্রণালয়ে আবার আরেকজন দুর্নীতি মুক্ত, দুর্নীতি বিরোধী অতিরিক্ত সচিব মহোদয়কে (মাহবুব কবীর মিলন) অপেক্ষাকৃত কম নাজেহাল হয়ে মন্ত্রণালয় ছাড়তে হলো।তাঁকে দুর্নীতির অপবাদ দেওয়া হয়নি, শুধু ওএসডি করা হয়েছে। এই সৎ অতিরিক্ত সচিব মহোদয় রেল মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি মুক্ত করতে চেয়েছিলেন অথচ দুর্নীতিবাজরা রেল মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতি বিরোধী মুক্ত করে ছাড়লেন।

Facebook Comments

Related Articles