তথাকথিত যুবলীগ নেতার আইনজীবী যখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

গতবছরের ক্যাসিনো অভিযানের শুরুর দিকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, এফডিআর, মদ ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে গ্রেফতারের খবর স্যাটেলাইট টেলিভিশন ও অনলাইন পত্রিকার সুবাদে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তখনও অনেকে জানত না কে এই জিকে শামীম।

যুবলীগের সমবায় সম্পাদক হিসেবে পরিচয়দানকারী জি কে শামীমের পূর্ণ নাম এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম। নারায়ণগঞ্জ শাখা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিও তিনি। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর যুবদলের সহ-সম্পাদক ছিলেন। জি কে শামীম বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মির্জা আব্বাসের খুবই ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

প্রভাবশালী ঠিকাদার জি কে শামীম রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার সরকারি কাজ নিয়ন্ত্রণ করেন। গণপূর্ত ভবনের বেশির ভাগ ঠিকাদারি কাজ তার নিয়ন্ত্রণে। বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র পর্যন্ত শামীমের ঠিকাদারি হাত বিস্তৃত। তাকে গ্রেপ্তার করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিপুল টাকা ঘুষ দিতে চান তিনি। সেসময় ব্যর্থ হলেও এখন অনেক বাঘা বাঘা আইনজীবীকে কিনে নিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

মার্চ মাসে অস্ত্র মামলায় বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। বিষয়টি প্রকাশিত হলে তুমুল হইচই এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট সে আদেশ বাতিল করেন।

সম্প্রতি একটি রিট আবেদনে জিকে শামীমের পক্ষে দাড়ান প্রভাবশালী আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় গ্রেফতার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জিকেবি অ্যান্ড কোম্পানির সঙ্গে আজিমপুর সরকারি কলোনীতে বহুতল ভবন নির্মাণের চুক্তি বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করেছেন হাইকোর্ট।

তার কোম্পানির পক্ষে করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের ভার্চ্যুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ও ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।

ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, যেহেতু কোম্পানিটির মালিক গ্রেফতার আছেন সেহেতু আজিমপুর সরকারি কলোনীতে বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষ না হওয়ার আশঙ্কায় ১৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি বাতিল করে সরকার। এর বৈধত চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। আদালত আজ রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন।

Facebook Comments

Related Articles