ঘুম হতে পারে আলঝেইমার প্রতিরোধের রক্ষক

বুধবার,১৯ আগস্ট,২০২০

“ঘুম হতে পারে আলঝেইমার প্রতিরোধের রক্ষক ” বলছে নতুন গবেষণা!!!

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক আলঝেইমার রোগ সম্পর্কে। এটি এমন এক ধরনের প্রগতিশীল রোগ যা ক্রমশ মস্তিষ্ক কোষকে ধ্বংস করে ও এক সময়ে মেরে ফেলে।
এটি হচ্ছে ডিমেনশিয়া অথবা স্মৃতিভ্রংশ রোগের অন্যতম কারণ।এর ফলে ক্রমশ চিন্তা,আচরণ ও সামাজিক দক্ষতা বাধাগ্রস্ত হয়।এমনকি একসময় স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতাকেও গ্রাস করে ফেলে।
প্রথমত সাম্প্রতিক ঘটনা বা স্মৃতি ভুলে যাওয়া দিয়ে শুরু হলেও শেষ হতে পারে নানা জটিলতায়।অবশেষে মৃত্যু পর্যন্ত।গবেষণা বলছে এই জটিল রোগের ঝুঁকি এড়ানোর উপায় হতে পারে পর্যাপ্ত ঘুম!!!
আলঝেইমারের প্রকৃত কারণ পুরোপুরি বোঝানা গেলেও মূল সমস্যাটা মস্তিষ্ক প্রোটিনের যা পুরোপুরিভাবে কাজ করতে পারে না, কাজকে ব্যাহত করে এবং নানা বিষাক্ত পদার্থ নিঃসরন করে থাকে।এতে স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও তাদের মধ্যে যোগাযোগ হারিয়ে মারা যায় যার শুরুটি হয় মূলত মেমোরি রিজিয়ন থেকে। গবেষকরা ২টি নির্দিষ্ট প্রোটিনের উপর জোর দিয়েছেনঃ
plaques:beta amyloid হচ্ছে বড় প্রোটিনের একটি অংশ। এই অংশগুলো গুচ্ছবদ্ধ হয়ে তৈরী করে amyloid plaque যার মধ্যে অন্যান্য সেলুলার ডেব্রিসও থাকে। এদের স্নায়কোষের উপর রয়েছে বিষাক্ত ক্রিয়া এবং যা ধ্বংস করে সেল টু সেল কমিউনিকেশন।
Tangles: Tau protein মূলত কাজ করে ইন্টার্নাল সাপোর্ট ও ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম। আলঝেইমার রোগে এই প্রোটিন গঠন বদলায় ও নিজেদের বিন্যস্ত করে একটি কাঠামোতে যাকে বলা হয় “neurofibrilliary tangles”। যা কোষের জন্য বিষাক্ত।
২০০৯ এ ইঁদুরের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণীরা জেগে থাকলে beta amyloid fragment গুলো তরংগায়িত হতে থাকে। ঘুমিয়ে গেলে তা নাটকীয়ভাবে কমে যায়। এটি ছিল আলঝেইমার বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি উদঘাট। তারা প্রথমবারের মত দেখিয়েছিল ” sleep deprivation”এর একটি প্রভাব রয়েছে আলঝেইমার ডিজিজে।
২০১৩ তে অধ্যাপক স্পাইরা এভারেজ ৭৬ বছর বয়সী ৭০ জন বৃদ্ধের উপর গবেষণা করেন।গবেষণায় দেখা যায়, কম ঘুমানো অথবা sleep deprivedদের মধ্যে amyloid plaque এর পরিমাণ সঠিক পরিমাণে ঘুমানোদের তুলনায় অনেক বেশি।
পরবর্তী বছর ড.মাইকেন নেডারগার্ড,কোওর্ডিনেটর অফ সেন্টার ফর ট্রান্সলেশনাল নিউরোমেডিসিন অফ ইউনিভার্সিটি অফ রোচেস্টার গবেষণায় বলেন যে একগুচ্ছ কোষ ঘুমের মধ্যে কাজ করে থাকে ম্যাসিভ পাম্প হিসেবে যার কাজ হচ্ছে কিছু তরল ভিতরে ঢুকানো ও বের হতে দেওয়া। আর এই প্লাম্বিং সিস্টেমকে তিনি নাম দেন “glymphatic pump” যেটি কিনা কাজ করে নিউরাল রিন্সিং এ। এর ফলে বের হয়ে যাচ্ছে নানা ক্ষতিকর পদার্থ এবং ব্রেইন প্রস্তুত হচ্ছে নতুন একটি ডেইলি সাইকেলের জন্য।
গত বছর লোরা লুই, সহযোগী অধ্যাপ, বোটসন ইউনিভার্সিটি ঘুমের সময় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাখ্যা করেন।জেগে থাকলে কম পরিমান সেরেব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড নিউরন ও টিস্যুগুলোকে ধুয়ে যায়।ঘুম বিশেষ করে গভীর ঘুমের সময় CSF মস্তিষ্ককে একটি cleansing flood এ পরিপৃক্ত করে।
এত উদঘাটন প্রগাঢ়ভাবে নির্দেষ করলেও গবেষকদের এ ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে বলতে ২টি প্রমাণের এখনো প্রয়োজন ঃ
১.Disrupted sleep pattern ও High risk গ্রুপের মধ্যে কোরিলেশন
২.যদি high risk গ্রুপ ঘুমের কারনে উন্নতি করে ও ঝুঁকি কমে।
(সূত্রঃইন্টারনেট + টাইম)
নিজস্ব প্রতিবেদক/রিফাত মেহেজাবিন
আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles