কি কি আলাপ করলেন শ্রিংলা

প্রতিবেশী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অটুট এবং আরও উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করতে চায় ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘প্রতিবেশীই প্রথম’ এ নীতির জবাবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। সেই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার অমীমাংসিত বিষয়ের নিষ্পত্তি চায় বাংলাদেশ। আগামী মাসে বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক করার বিষয়েও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফরে আলোচনা হয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলার দুদিনের ঢাকা সফরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক এবং গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে এই প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদেশি অতিথির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পাঠানো বার্তা তুলে ধরেছেন। গত কয়েক মাস ধরে ভারতের নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান শীতল সম্পর্কের বরফ গলাতে এবং চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও ঘনীভূত হওয়ার সম্ভাবনা দেখে এবং করোনায় সৃষ্ট বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নিজেদের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশকে পাশে পেতেই এ সফরের আয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতের পক্ষ থেকে জোরালো প্রস্তাবে এসেছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টিকা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ভারতের সঙ্গে টিকার ট্রায়ালের প্রস্তাব।

জানা গেছে, শ্রিংলা টিকা ট্রায়ালের প্রস্তাব দিলে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের টিকা উৎপাদনে সহায়তার করার কথা বলেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের স্মারক হিসেবে শেখ হাসিনা নাগরিকত্ব আইন সংশোধন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করতে আগামী বছর ১ জানুয়ারি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলা, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীগুলোর চুক্তি বিষয় দ্রুত সমাধানের জন্য বলেছেন। চীনের টিকার ট্রায়ালের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী কোনো মন্তব্য না করে বলেছেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হলো সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। আর প্রতিবেশী দেশ এবং বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে সবসময়ই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর এ বার্তা নরেন্দ্র মোদিকে পৌঁছে দেবেন এবং তার সরকার এ রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে মিয়ানমারের কাছে প্রস্তাব দেবেন এমনই আশ্বাস দিয়েছেন শ্রিংলা।
বাংলাদেশের একাধিক কূটনৈতিক বিশ্লেষক নরেন্দ্র মোদির এ বার্তা পাঠানোকে দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা মনে করছেন, বাংলাদেশ ভৌগোলিক রাজনীতিতে বিশেষ করে ভ্যাকসিন রাজনীতিতে এগিয়ে আছে। চীনা বা অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের পাশাপাশি দেশে টিকা উৎপাদন এবং দ্রুত টিকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, চীনের সঙ্গে সম্প্রতি প্রকাশ্য বিরোধ এবং চীনের টিকার বাংলাদেশে ট্রায়ালের প্রস্তাব, এনআরসি নিয়ে শীতল সম্পর্ক, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়, সর্বশেষ ঢাকায় ভারতীয় বিদায়ী হাইকমিশনারকে দুই বছরে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ না দেওয়ায় ভারতীয় গণমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে নেপালের সঙ্গেও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয় নরেন্দ্র মোদি। ফলে চীনের টিকার ট্রায়ালের বিপরীতে অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের প্রস্তাব নিয়ে আসে। এখন বাংলাদেশ অক্সফোর্ডের টিকা উৎপাদনের বিষয়ে জোরালো প্রস্তাব দিলে ভারত তাতে রাজি হতে পারে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শ্রিংলার বৈঠকে আগরতলা-আখাউড়া রেল লিংক, খুলনার (রামপাল) ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্লান্ট এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি একসঙ্গে পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের আলোচনার ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে গতকালের বৈঠক হয়।

মাসুদ বিন মোমেন ও হর্ষবর্ধন শ্রিংলার বৈঠক : ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা গতকাল তার ঢাকা সফরকে অত্যন্ত সন্তোষজনক বলে অভিহিত করেছেন। দুদিনের সফরের শেষভাগে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচনায় কভিড-১৯ টিকা ইস্যুটি প্রাধান্য পায়।

সোনারগাঁও হোটেলে বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে শ্রিংলা সংবাদকর্মীদের বলেন, ‘আমি একটি খুব সন্তোষজনক, খুব সংক্ষিপ্ত সফর সম্পন্ন করলাম। ’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী কভিড-১৯-এর টিকা উদ্ভাবনের দৌড়ে শীর্ষস্থানীয় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে টিকা তৈরির পর নয়াদিল্লি তাদের সম্ভাব্য কভিড-১৯ ভ্যাকসিন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাংলাদেশকে সরবরাহ করবে। কভিড ভ্যাকসিন তৈরি করা হলে বন্ধু, অংশীদার ও প্রতিবেশীরা কোনো কথা ছাড়াই এটি পাবে। বাংলাদেশ আমাদের জন্য সবসময়ই একটি অগ্রাধিকার। ’ শ্রিংলা আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের ৬০ শতাংশ উৎপাদনকারী ভারত এখন ভ্যাকসিনটি ব্যাপক আকারে উৎপাদন করার পর্যায়ে পৌঁছেছে। গতকাল (মঙ্গলবার) তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতে কভিড-১৯ মহামারী নিয়ন্ত্রণে গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এমনকি মহামারী পরিস্থিতিতেও তাকে ঢাকা পাঠিয়েছেন। শ্রিংলা বলেন, ‘আমি এখানে আসার কারণ হলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী উপলব্ধি করেছেন যে, কভিড পরিস্থিতির কারণে আমাদের মধ্যে খুব বেশি যোগাযোগ হয়নি। কিন্তু সম্পর্ক (ভারত-বাংলাদেশ) অব্যাহত রাখতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই শক্তিশালী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং আমি মূলত সে বিষয়টি দেখার জন্যই এসেছি। ’

এদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেছেন, ভারত আশ্বস্ত করেছে যে, সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম অগ্রাধিকার পাবে এবং তার প্রতিপক্ষ জানিয়েছেন যে, ভারত শুধু তাদের জন্য এ ভ্যাকসিন তৈরি করছে না, বাংলাদেশ প্রাথমিক পর্যায়েই এটি পাবে। মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘আমরা (বাংলাদেশ) ভ্যাকসিন পরীক্ষার বিষয়ে ভারতকে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছি। ভারতীয় পক্ষ এটি “ইতিবাচকভাবে” নিয়েছে। ’ তিনি বলেন, বাংলাদেশ কভিড ভ্যাকসিন তৈরিতে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে সম্পৃক্ত করতে দেশটির সহযোগিতা চেয়েছে।

মহামারী ও মহামারী-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বিষয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সহযোগিতা নিয়েও দুই পররাষ্ট্র সচিব আলোচনা করেছেন। তারা ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং যৌথ পরামর্শমূলক কমিশনের (জেসিসি) একটি সম্ভাব্য ভার্চুয়াল বৈঠক সম্পর্কেও আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে দুপক্ষই জেসিসির বৈঠকটি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে করতে চায় উল্লেখ করে মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘সম্ভবত এজেন্ডা ঠিক করার জন্য জেসিসির বৈঠকের আগে আমি নয়াদিল্লি সফর করব। ’ ওই বৈঠকের আগে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন, যাতে এ অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু তারা পরিহার করতে পারেন। এ বছর প্রথম সাত মাসে সংখ্যাটি বেড়ে গেছে বিভিন্ন সময় থেকে এবং এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চিকিৎসাপ্রত্যাশী ও ব্যবসায়ীদের ভ্রমণের সুযোগ দিতে উভয়পক্ষই মহামারী পরিস্থিতিতে বিমান ভ্রমণ ‘বাবল’ চালু করতে সম্মত হয়েছে। এয়ার বাবল মেকানিজমের আওতায় শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিমান যোগাযোগ ফের চালু করা হবে। তৃতীয় কোনো দেশ এতে যুক্ত হবে না। অর্থাৎ এয়ারলাইনস কোনো ট্রানজিট যাত্রী নেবে না।

বাংলাদেশে অবস্থানরত এক ভারতীয় কূটনীতিক জানিয়েছেন, ভারত ইতিমধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালদ্বীপের সঙ্গে এ জাতীয় এয়ার বাবল চালু করেছে। দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন এবং ভারত নিরাপদ, সুরক্ষিত ও টেকসই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্পর্কে তার অবস্থান পুনর্বার ঘোষণা করে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা দাশ গাঙ্গুলি গতকাল রাতে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘এ সফর উভয়পক্ষের (ভারত-বাংলাদেশ) সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। ’

এর আগে বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনের দায়িত্বপালনকারী শ্রিংলা চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব গ্রহণের পর গত মার্চ মাসে ঢাকা সফর করেন। করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর এটি তার প্রথম বিদেশ সফর।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হর্ষবর্ধন শ্রিংলার ঢাকা সফরকে একটা ব্রেক থ্রু হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। তিনি বলেন, ‘করোনার সময় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক নেই কোনো দেশেরই। সেটার একটা ব্রেক থ্রু হিসেবে আমরা দেখছি এ ভিজিটটাকে। স্বয়ং মোদি এবং ফরেন মিনিস্টারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই এখানে এসেছেন তিনি এবং করোনার সময় ওনারও প্রথম সফর এটি। উনি আমাকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দিল্লিতে যাওয়ার জন্য। জয়েন কনসালট্যান্ট কমিটির মিটিং হবে, তার আগেই হয়তো আমি একবার যাব। ’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, ‘দুই দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিকমাধ্যমে আমরা যেসব তথ্য দেখতে পেয়েছি সে বিষয়ে পরস্পরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি এবং সম্পর্ককে আরও বেগবান করার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ’ বৈঠক সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতে আটকেপড়া বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরার ব্যাপারে তিনি (শ্রিংলা) সহযোগিতা করবেন। তাবলিগ জামাতে যারা গিয়েছিল সেখানে বেশ কিছুসংখ্যক বাংলাদেশি ছিলেন। তাদের একটা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে তারা ছাড়ছে। অলরেডি কিছু বাংলাদেশি ফিরেও এসেছেন। যার সংখ্যা একশর কাছাকাছি। আরও এ রকম শতাধিক ভারতে রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে যতটুকু পারা যায় সেই সমস্যারও সমাধান করব।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ভারত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্য পদ পেয়েছে এ বছর। আমরা সমর্থন করেছি। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে তারা নিরাপত্তা পরিষদে বসবে। নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্বের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। আমাদের একটা কনসার্ন আছে সেটা হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু। রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা অনেক চেষ্টা করে এসেছি যাতে নিরাপত্তা পরিষদে একটা রেজুলেশন পাস করা যায়। কিন্তু কিছু কিছু স্থায়ী সদস্য এ ব্যাপারে তাদের রিজারভেশনের কারণে আমরা সেটা করতে পারিনি। আমরা ভারতের কাছে সাহায্য-সহযোগিতা চেয়েছি। বাইলেটেরালি তাদের সঙ্গেও মিয়ানমারের ভালো সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বলেন, তারা (ভারত) ইনফ্রাস্ট্রাকচারসহ বেশকিছু জিনিস তৈরি করে দিচ্ছে রাখাইন রাজ্যে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পর তারা সেখানে থাকবে। সে ব্যাপারেও যেন তারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রাখে এবং মিয়ানমারকে পারসুলেট করে এ প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে। আগামীতে নিরাপত্তা পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার জন্য তাদের সহযোগিতা আমরা কামনা করেছি। তারা আমাদের অঞ্চলটাকে ভালো জানেন, দুই দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক আছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে সেটার আলোকে তারা আমাদের সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

যৌথভাবে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি : ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব যৌথভাবে পালন করবে বাংলাদেশ ও ভারত। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের কাছের প্রতিবেশী। তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে তারাও রক্ত দিয়েছে। আগামী বছর আমরা স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উৎসব করব। এ উৎসবে অনেক অনুষ্ঠান দু’দেশ মিলে করবে। এজন্য আলাপ-আলোচনাও চলছে। ’ গতকাল সকালে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রবাসী শ্রমিকদের ফেরত পাঠানো নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের নতুন নতুন আইনই জটিলতার কারণ। তবে এসব জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে। ’

দেশ রুপান্তর।

Facebook Comments

Related Articles