বাংলাদেশের প্রতি জাপানের কেন এতো ভালোবাসা!

শুক্রবার,২১ আগস্ট,২০২০

রাধাবিনোদ পাল…পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের পত্রিকা অনুযায়ী, “দা গ্রেট জুরিস্ট অফ ইন্ডিয়া “।

আমরা কেউ চিনি?আমাদের পাঠ্যবইয়েও তো কখনো দেখলাম না তাকে নিয়ে কোন উক্তি।
এই লেখাটা পড়ার আগে হয়তো কেউ নামটিও শুনি নাই।
খুবই আফসোস হয়,যখন দেখি আমাদের দেশের রত্নকে নিয়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারত অহংকার করে।
যেইখানে আমাদের দেশের কেউ তার নামই শুনি নাই।
কে এই রাধাবিনোদ পাল?যার জন্য জাপান আজও বাঙ্গালিকে সম্মান করে!!

রাাধাবিনোদ পাল ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্মাননাপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির নাম যার জন্ম বর্তমানের কুষ্টিয়া জেলায়।
এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে,কুষ্টিয়ার ছেলে রাধাবিনোদ পালের সাথে জাপানের কি সম্পর্ক?

আপনারা জেনে অবাক হবেন যে, আজকের এই অর্থনৈতিতে সমৃদ্ধ দেশ জাপানের অবস্থা হয়তো অনেক করুণ থাকতো যদি এই বাঙ্গালি না জন্মাতো।
ঘটনাটি ২য় বিশ্বযুদ্ধের পরের সময়কাল।কেন্দ্রীয়শক্তির দেশ জাপান,জার্মানি,ইতালি যখন মিত্রশক্তির কাছে হেরে যায় তখন তাদের তুলা হয় বিচারের কাঠগড়ায়। যুদ্ধাপরাধের নানা অভিযোগ তুলা হয় এই দেশগুলোর বিরুদ্ধে। জাপানের জেনারেলের বিরুদ্ধে তুলা হয় চীনে গনহত্যার অভিযোগ। এই বিচারকার্যের নাম ছিলো “টোকিও ট্রায়াল”
রাধাবিনোদ পাল ছিলেন এই ট্রাইবুনালের এগারো জনের একজন। যেইখানে গনহত্যার জন্য জাপানের প্রতিটি মানুষকে পরোক্ষ আর প্রত্যক্ষ ভাবে দায়ী ঘোষনা করা হয়। তখনকার জেনালেরের ফাঁসি সহো জাপানকে বড় অংকের জরিমানা ঘোষণা করা হয়।
উপস্থিত সবাই এই দায় মেনে নিলেও বেকে বসে বাঙ্গালি বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল।
তিনি বলেন ” হ্যা আমি মানি জাপান যুদ্ধপরাধ করেছে,কিন্তু জাপানের হিরোশিমা,নাগাসিকাতে পারমানবিক বোমার হামলার পিছনে থাকা সকলই একই অপরাধে দায়ী।আর তাদের বিচারও হওয়া উচিত এবং আজকের টোকিও ট্রাইবোনালেই এইটা সম্ভব”
তার এই কথা শোনে উপস্থিত সকল বিচারক যারা ভেবেই নিয়েছিলেন জাপানের বিরুদ্ধে অভিযোগের মাধ্যমে বড় অংকের জরিমানা আদায় করে জাপানের মেরুদন্ডে ভেজ্ঞে দিবে তারা হত-বিহবল হয়ে পড়ে। তার আটশো এক পৃষ্ঠার রায় জাপানের পক্ষে যায় এবং জাপান ঐদিনে তুলা অভিযোগ থেকে মুক্তি পায়।
জাপানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে হয়তো আজকের এই জাপানের থেকে অনেক অনেক পিছিয়ে থাকতো।
তাই তো, তার এই সাহসীকতার জন্য জাপানের তৎকালীন জেনারেল ইয়াছুকুনি স্রাইন বলেন “যতোদিন জাপান থাকবে ততোদিন কোন বাঙ্গালি না খেয়ে মরবে না”
তার এই কথার প্রতিদান জাপান এখনো দিয়ে আসছে।বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক সাহায্য জাপানের থেকে পেয়ে থাকে।জাপানের প্রতিটি মানুষ তাই রাধাবিনোদ পালকে সহো এখনো সকল বাঙ্গালীকে মন থেকে শ্রদ্ধা করে।
তাদের দেশের পাঠ্যবইয়ে রাধাবিনোদকে নিয়ে পড়ানো হয়। রয়েছে একাধিক মনুমেন্ট।

কিন্তু খুবই আফসোস হয়,যখন দেখি পাশ্ববর্তী দেশ ভারতও রাধাবিনোদ পালকে নিয়ে একাধিক ডকুমেন্টারী তৈরী করে,তাদের সংবাদমাধ্যম সহো রাজনৈতিক ব্যাক্তিরাও রাধাবিনোদ পালকে নিয়ে গর্ব করে।সেইখানে আমাদের দেশের সন্তানকে আমাদের এই প্রজন্ম চিনেই না,নামও শোনে নাই।

তাই আসুন এই আর্টিকেলদের ছড়িয়ে দিয়ে,আমাদের দেশের রত্নদের এই প্রজন্মের সামনে নিয়ে আসি। এই দেশের পাঠ্যবইয়ে থাকুক রাধাবিনোদদের মতো সাহসীদের ছবি।তারাও একটু গর্ব করুক , “আমাদের একজন রাধাবিনোদ পাল ছিলো ” এই কথা বলে।

নিজস্ব প্রতিবেদক/ সিজান শেখ

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে:https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles