চরের কন্যা আঁখি আজ জাতিসংঘের “রিয়েল লাইফ হিরো”

সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২০

নিজের হাতে মাস্ক তৈরি করে কমদামে গরিব মানুষের হাতে তুলে দেয়ায় জাতিসংঘের “রিয়েল লাইফ হিরো” সম্মাননা পেলো খুলনার রূপসা চরের মেয়ে আঁখি৷ গত ১৯ আগস্ট “বিশ্ব মানবিক দিবস” উপলক্ষে জাতিসংঘ আঁখিসহ আরও চার বাংলাদেশীকে এই স্বীকৃতি প্রদান করে।

রূপসার চরের বস্তিতে বড় হওয়া মেয়েটি মাসুদ মোল্লা ও আনোয়ারা বেগমের দ্বিতীয় সন্তান। চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় কাজ করাকালীন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে শারীরিক ভাবে অক্ষম হয়ে পড়েন আঁখির বাবা৷ ফলশ্রুতিতে সংসারের রোজগার চালাতে তার মা ও বড় বোনের সাথে কারখানার কাজে যোগ দেয় আঁখি। এভাবেই ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পা দেয়ার পরই দারিদ্র্য রুখে দেয় আঁখির পড়াশোনা।

পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ভিশন পরিচালিত “জীবনের জন্য প্রকল্পে” র কর্মী আবেদা সুলতানা আঁখির জন্য সেলাই প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেন, এবং সেখান থেকেই আঁখির হাতে তুলে দেয়া হয় একটি সেলাই মেশিন ও কিছু থান কাপড়। তা দিয়েই এলাকার লোকজনের পোশাক সেলাই করে গড়ে ৩০০০ টাকা করে আয় করতে শুরু করে আঁখি।

মাস্ক বিক্রি প্রসঙ্গে আঁখি জানায়, “যখন করোনা ভাইরাস শুরু হয়েছিলো তখন বাজারে মাস্ক পাওয়া যাচ্ছিলো না। কিছু কিছু দোকানে পাওয়া গেলেও সেগুলোর দাম ছিলো অনেক। আমাদের এলাকার দরিদ্র মানুষ সেসব কিনতে পারত না। যখন জানলাম যে করোনা থেকে মুক্ত থাকতে অবশ্যই মাস্ক পড়তে হবে, তখন আমি নিজেই মাস্ক তৈরি করে কম দামে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। যাদের একদম টাকাপয়সা নেই তাদেরকে বিনামূল্যে আমার তৈরিকৃত মাস্ক দিয়েছি।”

নিজে দারিদ্র্যের চরম নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েও দরিদ্রদের জন্য তার এই অসামান্য উদ্যোগই আঁখিকে আজ জাতিসংঘের “রিয়েল লাইফ হিরো” হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য করে তুলেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
নোশিন অয়ন

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles