পিএসজির হৃদয় ভেঙ্গে বায়ার্নের ষষ্ঠ শিরোপা

সোমবার,২৪ আগস্ট,২০২০

খুব প্রয়োজনের সময় যেন গোল করতে ভুলে গেল পিএসজি। দুই বড় ভরসা নেইমার-কিলিয়ান এমবাপ্পে রইলেন নিজেদের ছায়া হয়ে। দুয়ারে গিয়েও ইতিহাস গড়া হলো না পিএসজির। আসর জুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলা বায়ার্ন মিউনিখ উজ্জ্বল শেষ বেলাতেও। ফরাসি চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ষষ্ঠ শিরোপা জিতল হান্স ফ্লিকের দল।
লিসবনে রোববার রাতের ফাইনালে দুই দলের মাঝে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে কিংসলে কোমানের একমাত্র গোল।
প্রতিযোগিতাটিতে টানা ৩৪ ম্যাচে গোল করার পর জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হলো পিএসজি। ইউরোপ সেরার মঞ্চে প্রথমবারের মতো ফাইনাল খেলতে আসা দলের দুর্দশা দীর্ঘায়িত হলো আরও।
প্রতিযোগিতাটিতে টানা ৩৪ ম্যাচে গোল করার পর জালের দেখা পেতে ব্যর্থ হলো পিএসজি।
এক দল শেষ ১০ ম্যাচে গোল করেছে ৪২টি, আরেক দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শেষ কবে জালের দেখা পায়নি, সেটাই সবাই ভুলতে বসেছে। আক্রমণভাগে ছন্দে থাকা দারুণ সব ফরোয়ার্ড থাকার পরও প্রথমার্ধে খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে ভুগলো বায়ার্ন ও পিএসজি।
প্রথম ভালো সুযোগ আসে অষ্টাদশ মিনিটে। কিলিয়ান এমবাপের ডি-বক্সে বাড়ানো বল ধরে কোনাকুনি শট নেন আগের দুই ম্যাচে আলো ছড়ানো নেইমার। পা বাড়িয়ে কোনোমতে কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান বায়ার্ন গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার।
চার মিনিট পর প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়ায় বায়ার্ন। তবে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে পেয়ে শরীরটাকে ঘুরিয়ে রবের্ত লেভানদোভস্কির নেওয়া শট পোস্টে বাধা পায়। পরের মিনিটে পাল্টা আক্রমণে ভালো জায়গায় বল পেয়েও উড়িয়ে মারেন আনহেল দি মারিয়া।
এরপরই একটা ধাক্কা খায় বায়ার্ন। চোট পেয়ে খুড়িয়ে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার জেরোমে বোয়াটেং, বদলি নামেন নিকলাস সুলে।
৩১তম মিনিটে ছোট ডি-বক্সের বাইরে থেকে বলে ঠিকমতো মাথা লাগাতে পারেননি লেভানদোভস্কি। পড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্তে তার নেওয়া সোজাসুজি হেড দুবারের চেষ্টায় ঠেকান চোট কাটিয়ে ফেরা কেইলর নাভাস।
বিরতির ঠিক আগে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়েছিলেন এমবাপে। ডি-বক্সে বল পেয়ে শট না নিয়ে ডানে পাস দেন দি মারিয়াকে। ফিরতি বল ধরে মাথা ঠাণ্ডা রাখতে পারেননি তিনি। নয়ার বরাবর দুর্বল শট নিয়ে বাড়ান হতাশা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঝমাঠের বাইলাইনে নেইমারকে বায়ার্নের জিনাব্রি অহেতুক ফাউল করলে দু’পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়ায়। জিনাব্রি ও পিএসজির লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।
গোছানো এক আক্রমণে ৬০তম মিনিটে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। জসুয়া কিমিচের ক্রসে লাফিয়ে কোনাকুনি হেডে ঠিকানা খুঁজে নেন কোমান।
ইউরোপের ক্লাব সেরার মঞ্চে এটি জার্মান চ্যাম্পিয়নদের ৫০০তম গোল। তাদের আগে এই মাইলফলক ছুঁয়েছে কেবল দুই স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা।
দুই মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ তৈরি করেছিলেন কোমান। তবে তার ভলি রুখে দেন ডিফেন্ডার চিয়াগো সিলভা। ৭০তম মিনিটে কাছ থেকে মার্কিনিয়োসের দুর্বল শট পা দিয়ে ঠেকান নয়ার।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে শেষ দিকে জমে ওঠে ম্যাচ। কোয়ার্টার-ফাইনালে আতালান্তার বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করা এরিক মাক্সিম চুপো-মোটিং এবারও শেষ সময়ে পান দুটি ভালো সুযোগ। বিপজ্জনক জায়গা থেকে একবারও বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি তিনি।
প্রথমবার ফাইনালে উঠে হারের বেদনা নিয়ে মাঠ ছাড়ে টমাস টুখেলের দল। ১-০ গোলের জয়ে ট্রেবল জয়ের উচ্ছ্বাসে মাতে বায়ার্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক/সাইফুল ইসলাম সাব্বির

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles