সেপ্টেম্বরেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা আবাসিক হল খুলছেনা

করোনা সংক্রমণ এড়াতে বাংলাদেশ সরকার ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। ছুটির শেষ দিকে এসেও শঙ্কা না কমায় সেপ্টেম্বরেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না বলে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মনে করছে। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও সে ব্যাপারে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছন, দেশের পরিবেশ এখনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার মতো হয়নি বলে তিনি মনে করেন।

গত ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও তা একই কারণে আটকে আছে। এ ব্যাপারে দীপু মনি বলেন, “১৫ দিন অন্ততপক্ষে শিক্ষার্থীদের নোটিস দিয়ে আমরা পরীক্ষা নেব। কিন্তু পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি হতে হবে, আমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

“আমরা যখন বুঝব এবং আপনারাও (গণমাধ্যমকর্মী) বুঝবেন এত বড় পাবলিক পরীক্ষা নেওয়ার মতো অনুকূল পরিবেশ আছে, সেটি হওয়া মাত্রই আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেব।”

“এইচএসসি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি কারণ তখন পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি ছিল না। এখনও এত বড় একটি পাবলিক পরীক্ষা যেখানে শুধুমাত্র ১৪ লাখ পরীক্ষার্থী, তারসঙ্গে শিক্ষকরা আছেন যারা পরীক্ষক হিসেবে থাকবেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন, পরিবারের সদস্যরা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আসেন।

“এদের অধিকাংশই কিন্তু গণপরিবহনে যাতায়াত করেন, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একটা পরীক্ষা আমরা চাইলেই করে করে ফেলতে পারি না, আমাদের অনেক জিনিসই ভাবতে হয়।”

তিনি বলেন, “কোনো কোনো দেশ (করোনাভাইরাস) সংক্রমণের হার কমে যাওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছিল, তারাও কিন্তু পরে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে তো ঝুঁকি নিতে পারি না।”

“স্বাস্থ্য ঝুঁকি না কমলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা হবে না। তবে সকলেই সঠিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আমরা খুব দ্রুত কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছাতে পারব।”

করোনা পরিস্থিতি এখনও খারাপ পর্যায়ে থাকায় স্কুল খোলার বিপক্ষে মত দিয়েছেন শিক্ষাবিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৩ আগস্ট) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন বলেছেন, ‘সেপ্টেম্বর মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। করোনার কারণে চলতি বছর পিইসি বা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা না নেয়ার প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’

একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছেন। পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই সরকার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী খুবই চিন্তিত। তাই এ সময় শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহবান জানান ওবায়দুল কাদের।

এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি নিয়ে চলতি সপ্তাহেই নতুন সিদ্ধান্ত আসবে বলে গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংয়োগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের৷

সরকারের শীর্ষমহল থেকে ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়ে রাখা হয়েছে, করোনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা শুরু হলে সবার আগে খুলবে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনও খোলার পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) মনে করছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় খুললেও সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ছাড়া খোলা সম্ভব হবে না বলে ইউজিসি সূত্র জানিয়েছে।

গত বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্লাসরুমে হয়তো সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু আবাসিক হলে তা সম্ভব নয়। সেখানে একজনের করোনা হলে আরও দশজন আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য পরিস্থিতি আরো পর্যবেক্ষণ করতে চান বলে জানান তিনি।

করোনার কারণে পাঁচ মাসের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অবশ্য কিছু প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ও সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে পাঠদান চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পরিস্থিতির কারণে সবাইকে এর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।

Facebook Comments

Related Articles