করোনায় মেডিকেলীয় সংগঠনগুলোর অনন্য দৃষ্টান্ত

বৃহস্পতিবার,২৭ আগস্ট,২০২০

গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে শুরু হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত লকডাউনে পুরো দেশ যেখানে স্থবির, সেখানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কিছু সংগঠন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি আমাদের দেশের বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পুরো লকডাউন জুড়ে নিরলসভাবে ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। করোনার পাশাপাশি বিভিন্ন বন্যা দুর্গত এলাকায়ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে নজিরবিহীন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মেডিকেলীয় সংগঠন যেমন: সন্ধানী, মেডিসিন ক্লাব, প্ল্যাটফর্ম,FDSR, Chamber of Doctors ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরণের এলাকা ভিত্তিক মেডিকেল সংগঠন।

সন্ধানী – এই পুরো করোনা জুড়ে সন্ধানীর কার্যক্রম ছিল বিস্তৃত পরিসরে। ৪৩টি ক্র‍্যাক প্লাটুন ভলান্টিয়ার টিম যেখানে ১০০০ এরও অধিক স্বেচ্ছাসেবী ভলান্টিয়ার নিরলসভাবে পুরো করোনা জুড়ে সারা বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে গিয়েছে। ফ্রি এম্বুলেন্স সার্ভিস, ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, চিকিৎসকদের মাস্ক-গ্লাভস-হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ, টেলিমেডিসিন সেবা, এছাড়াও প্লাজমা ডোনেশনের মাধ্যমে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এর পাশাপাশি রয়েছে রক্তদান করা, বিভিন্ন জনসেবামূলক পোস্টার, লিফলেট বিতরণ, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক পোস্টার, স্বাস্থ্য বিষয়ক বিভিন্ন লাইভ অনুষ্ঠান এবং নিয়মিত করোনা আপডেট। করোনাকালীন সময়ে সন্ধানীর কার্যক্রম ছিল বিস্তৃত এবং ব্যাপক যা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

মেডিসিন ক্লাব – পুুুরো করোনাকালীন সময়ে মেডিসিন ক্লাবের কার্যক্রম ছিল বিস্তৃত। চিকিৎসকদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস চালু করা, সারাদেশে প্রায় ৭০০ পিপিই বিতরণ, ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্লাজমা থেরাপী কার্যক্রমে প্লাজমা ডোনেশন ও বরাবরের মতো ব্লাড ডোনেশন কার্যক্রম সহ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজে এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মেডিসিন ক্লাব। এছাড়াও ফ্রি টেলিমেডিসিন সেবা, নিয়মিত করোনা আপডেট, বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক পোস্টার ও লিফলেট তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন অনলাইন সেশনের আয়োজনও ছিল তাদের কার্যক্রমের অংশ। এই পুরো মহামারীকালীন সময়ে মেডিসিন ক্লাবের কার্যক্রম ছিল চোখে পরার মত।

প্ল্যাটফর্ম – করোনাকালীন সময়ে প্ল্যাটফর্ম অফ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল সোসাইটির কার্যক্রম ছিল ব্যাপক এবং বিস্তৃত। করোনার শুরু থেকেই অনলাইনে নিয়মিত করোনা আপডেট, জনসচেতনতামূলক লাইভ সেশন, পোস্টার, ভিডিও যেমন ছিল তেমনি ছিল অফলাইনে বিস্তৃত পরিসরের কার্যক্রম। প্লাজমা পুল চালু করার মাধ্যমে সংকটাপন্ন করোনা রোগীর জীবন বাঁচানো, টেলিমেডিসিন সেবা, বিভিন্ন মেডিকেলে পিপিই-মাস্ক-গ্লাভস বিতরণ, হাসপাতালে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ, বন্যা দুর্গতদের সহায়তা এবং চিকিৎসকদের বাড়ি থেকে ফ্রি করোনা স্যাম্পল সংগ্রহ সহ DGHS এর করোনা ইউনিটেও সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে প্ল্যাটফর্ম এর অনেক ভলান্টিয়াররা। সবকিছু মিলিয়ে করোনাকালীন সময়ে প্ল্যাটফর্ম এর কার্যক্রম এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

Foundation For Doctors’ Safety & rights(FDSR) – চিকিৎসকদের অধিকার নিয়ে কথা বলা FDSR এর কার্যক্রমও ছিল বিস্তৃত। করোনা চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন হাসপাতালে এবং করোনা ইউনিটে ডাক্তারদের উপর বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণ এবং বিভিন্ন চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে গিয়েছে এই সংগঠনটি। এছাড়াও বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রমেও ছিল তাদের অবদান। বন্যার্তদের সাহায্য করা, পিপিই বিতরণ, বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক পোস্টার এবং লিফলেট প্রচার ও বিভিন্ন জনসেবামূলক লাইভ সেশন আয়োজন এবং স্টুডেন্ট উইং এর পক্ষ থেকে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন কুইজ প্রোগ্রামও ছিল তাদের কার্যক্রমের অংশ।

Chamber Of Doctors(COD) – করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য সংগঠনের পাশাপাশি চেম্বার অফ ডক্টরসের কার্যক্রমও ছিল চোখে পরার মতো। বিভিন্ন অনলাইন সেবার পাশাপাশি ব্লাড ব্যাংক এর মাধ্যমে রোগীর রক্ত সরবরাহ করা, বন্যাদুর্গতদের আর্থিক সাহায্য করা এবং করোনা সম্পর্কিত যেকোন প্রকার সহায়তা করেছে এই সংগঠনটি। কোয়ারেন্টাইনে স্টুডেন্টদের একঘেয়ামি কাটাতে নিয়মিত একাডেমিক পোস্ট করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিত জীবনে সুস্থ থাকার জন্য স্বাস্থ্য বিষয়ক আর্টিকেল প্রকাশ করার মাধ্যমে করোনাকালীন বিশাল এক অবদান রেখে গিয়েছে এই সংগঠনটি।

এছাড়াও স্টেথোস্কোপ মেডিকেল কমিউনিটির পক্ষ থেকে মাস্ক, গ্লাভস বিতরণ পাশাপাশি বিভিন্ন লাইভ সেশন আয়োজন যা করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেক উপকার করেছে। এছাড়াও মেডিকেল পরিবার এর পক্ষ থেকে বন্যার্তদের সাহায্য এবং বিভিন্ন জনসেবামূলক কার্যক্রমও ছিল। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক মেডিকেল সংগঠন, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ সবকিছু মিলে এই করোনাকালীন সময়ে ডাক্তার, মেডিকেল শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একদিন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে কিন্তু এই জনসেবামূলক সংগঠন গুলো এবং সংগঠনের মানুষদের নাম সবসময় ইতিহাসে লেখা থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, এই সময়

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles