জার্মান ইতিহাস পেরিয়ে ব্রিটিশ রাজপরিবারের উত্থান

বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ রাজপরিবার ১৯১৭ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রয়াল হাউস অফ উইন্ডসর নামে পরিচিত এই রাজপরিবারের উঠে আসার পিছনে রয়েছে এক বিশাল ইতিহাস।

একসময় ব্রিটেন শাসন করেছেন রাণী ভিক্টোরিয়া। তিনি পরিচিত ছিলেন আলেকজান্দ্রিনা ভিক্টোরিয়া নামে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তার পিতামাতা ছিলেন জার্মান রক্তধারী। এরপর ১৮৪০ সালে তিনি বিয়ে করেন জার্মান প্রিন্স এলবার্টকে। এবং তাদের সন্তান সপ্তম এডওয়ার্ড ও ছিলেন জার্মান রক্তধারী। পরবর্তীতে রাজা এডওয়ার্ড বিয়ে করেন ড্যানিশ রাজকুমারী আলেকজান্দ্রাকে।

তাদের সন্তান পঞ্চম জর্জ হয়ে যান জার্মান ও ড্যানিশ রক্তধারী। এদিকে পঞ্চম জর্জ বিয়ে করেন মেরীকে,যিনি নিজেও একজন জার্মান বংশোদ্ভূত। সেসময় পুরো ইউরোপজুড়ে রাজতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার উদ্দেশ্যে রাণী ভিক্টোরিয়া ও প্রিন্স এলবার্ট তাদের ৮ সন্তানের বিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন রাজপরিবারের মধ্যে দেন। এতকিছুর পরেও রাজপরিবারে থেমে থাকেনি অস্থিরতা। রাজা পঞ্চম জর্জকে অভিহিত করা হয়েছে অদুরদর্শী ও ভিনদেশী হিসেবে। রাজা হবার পূর্বেও তার বিশেষ কোনো অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রজাদেরকে অনুপ্রেরণা প্রদান এবং রাজপরিবারের সম্মান বজায় রাখার মত কাউকে পাওয়া যায় নি সেসময়ে। ব্রিটিশ রাজপরিবার সর্বদা “যেভাবে হোক টিকে থাকো” নীতি অবলম্বন করে এসেছে।

যেকারণে পতনের ভয়ে রাজা পঞ্চম জর্জ তার ভাই এবং প্রিয় বন্ধুকে প্রাসাদে আশ্রয় দেওয়ার অনুমতি দেন নি। ১৭ মার্চ,১৯১৭ সালে রাশিয়ার শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাসের পতন ঘটলে ব্রিটেনকে অনুরোধ করা হয় রোমানভদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে। ব্রিটিশ জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ব্যাক্তিগত সহকারীর পরামর্শে জার দ্বিতীয় নিকোলাসের প্রাণরক্ষার অনুরোধকে নাকোচ করে দেন ভাই পঞ্চম জর্জ।

৬ মাস ইয়াকাতেরিনবার্গে বলশেভিকরা নির্মমভাবে হত্যা করে দ্বিতীয় নিকোলাস ও তার পরিবারকে। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রফেসর জেন রিডলে বলেছেন, নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিষ্ঠুর হতেও দ্বিধাবোধ করবে না ব্রিটিশ রাজপরিবার। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে বেশ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়ে ব্রিটিশ রাজপরিবার। রাজতন্ত্রের উপর ভিত্তি করে নিশ্চিন্ত ছিলেন রাজা পঞ্চম জর্জ। কিন্তু সাধারণ জনগণের প্রতিবাদের মুখে পড়ে রাজতন্ত্র। ক্ষুব্ধ সাধারণ জনগণ তখন অংশ নেয় জার্মানবিরোধী আন্দোলনে। যুদ্ধের ময়দানেও সৈন্যদের মৃত্যু, অর্থসংকট সব মিলিয়ে বেশ বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে ব্রিটিশ রাজতন্ত্র। এমন সময়ে ব্রিটেনে হামলা চালায় স্যাক্স কোবার্গ গোথা বম্বার্স নামের একটি দল,যার সাথে মিল রয়েছে ব্রিটিশ রাজপরিবারের নামের।

দলটি বেশ নির্মম হামলা চালায় লণ্ডনে। তাদের বিমান হামলায় ১৮ জন শিশুসহ মোট ১৬২ জন মৃত্যুবরণ করে। হামলায় হতভম্ব ব্রিটেনের পত্রিকায় হামকারী দলের নাম ছাপা হয়। যা বিব্রতকর হয়ে উঠছিল ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য। এরকম পরিস্থিতিতে রাজা পঞ্চম জর্জ সিদ্ধান্ত নেন রাজপরিবারের নাম পরিবর্তনের। লর্ড স্ট্যামফোর্ডাম একটি নতুন নাম নির্বাচন করেন। রয়াল হাউস অফ উইন্ডসর। উইন্ডসর ক্যাসলকে বলা হয় ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ধারক। জার্মান সংস্পর্শ না থাকার কারণেই এই নাম নির্বাচন করা হয় বলে মনে করেন অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ। তবে অনেকে এটাকে বুদ্ধিবৃত্তিক একটি সিদ্ধান্ত হিসেবেও বিবেচনা করেন।

তথ্যসূত্রঃ roar media

Facebook Comments

Related Articles