জিদান মিয়া এবং বাংলাদেশ ফুটবল

শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২০

বাংলাদেশ ফুটবলে এখন আলোচিত নাম জিদান মিয়া। দেশের ফুটবলপ্রেমী সকলে তাকে দেশের জার্সিতে দেখার আশায় রয়েছেন। কিছুদিন আগে এই প্রসঙ্গে তাকে জিগ্যাসা করা হলে তিনি বলেন মাতৃভূমি বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারাটা তার নিজের জন্য অত্যন্ত সম্মানজনক হবে।

গল্পের শুরুটা লন্ডনের নিকটবর্তী শহর কেন্টের বাসিন্দা সুফিয়ান মিয়া ও শিপা মিয়ার সংসারে। তাঁদের একমাত্র ছেলে জিদান মিয়ার জন্ম এই শহরেই। এই পরিবারের বাংলাদেশের বাড়ি মৌলভীবাজার উপজেলার রাজনগরে। সুফিয়ান মিয়া লন্ডনে পাড়ি জমান সেই সত্তরের দশকে।
সুফিয়ান মিয়া বেশ ফুটবল পাগল মানুষ। তরুণ বয়সে তিনি নিজেই নামি ফুটবলার হওয়ার জন্য নানা চেষ্টা চালিয়েছেন। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তিনি কাউন্টি লিগেও খেলেছিলেন।
সুফিয়ান মিয়া বলেন, ‘খুব ছোটবেলা থেকেই জিদানকে সঙ্গে নিয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণে যেতাম। ওর বয়স যখন প্রায় সাত বছর, মাঠে বল নিয়ে তার দুরন্তপনা সবার দৃষ্টি কাড়ে’। খুব কম বয়সেই ছেলের ফুটবল প্রতিভা আর খেলার প্রতি টান আঁচ করতে পেরে তিনি জিদানকে ডেভিড বেকহাম সকার একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। শুরু হয় জিদানের ফুটবলার হয়ে ওঠার অভিযান।

শুরু থেকেই জিদান একাডেমি পর্যায়ের বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পান। তিনি একে একে ইংল্যান্ডের ডালউইচ হ্যামলেটস এফসি, ক্রিসটাল প্যালেস এফসি, প্রোটাস সকার একাডেমি, এলিট সকার একাডেমির হয়ে মাঠে নামেন। ১১ বছর বয়সে সুযোগ পান আর্সেনাল এফসি ডেভেলপমেন্ট স্কোয়াডে। একাডেমি পর্যায়ের টুর্নামেন্টে খেলার পাশাপাশি বাবার আগ্রহে ডেনমার্ক, স্পেন, হংকং, থাইল্যান্ডে গিয়ে বিভিন্ন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন জিদান।

জিদানকে তার বাবা ২০১২ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের জেনিভার স্পাইয়ার ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান প্রশিক্ষণের জন্য। সেখানে জিদান বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেটিকস প্রশিক্ষণকেন্দ্র মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টারের (এমজেপিসি) কর্তাদের নজর কাড়েন। তাঁরা জিদানকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য বৃত্তি প্রদান করেন। প্রায় দেড় বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তিনি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় কলাম্বাস ক্রু ক্লাবের হয়ে খেলতেন। ফুটবলে আরও ভালো সুযোগের কথা বিবেচনা করে ২০১৪ সালের আগস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসের মাইকেল জনসন পারফরম্যান্স সেন্টারে (এমজেপিসি) বদলি হন। এখানে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জিদান খেলছেন এফসি ডালাস অনূর্ধ্ব ১৫ দলে।

খেলার পজিশনের দিক দিয়ে, ‘সেন্টার মিডফিল্ডার হিসেবে খেলতেই তিনি বেশি পছন্দ করেন। কিন্তু মাঝেমধ্যে লেফট উইং ও স্ট্রাইকার হিসেবেও খেলতে হয়। যে পজিশনেই খেলেননা না কেন, মাঠে নিজেকে উজাড় করে দিতে মোটেও কার্পণ্য করেননা।’

বর্তমানে লন্ডনের ক্লাব ব্রোমলে এফসি একাডেমীতে আছেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান ফুটবলার জিদান মিয়া। করোনাকালে এখন ফিটনেস নিয়েই জোর দিচ্ছেন তিনি। আশা করছেন পরিস্থিতি আবার স্বাভাবিক হলে পুরোদমে মাঠে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি হাজার কিলোমিটার দূরে থেকেও বাংলাদেশের ফুটবলের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। দেশের ফুটবল ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণে তিনি জামাল ভূঁইয়ার পথ অনুসরণ করেন কিনা তা সময়ই বলে দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, এই সময়

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles