কোন এসিই বিস্ফোরিত হয়নি!

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লা বায়তুস সালাত জামে মসজিদে ছয়টি এসির একটিও বিস্ফোরিত হয়নি। লিকেজ থেকে বের হওয়া গ্যাস এবং বিদ্যুতের স্পার্ক থেকে বের হওয়া আগুনেই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান উপ-পরিচালক নূর হাসান আহমেদ।

তিনি বলেন, মসজিদের এসি থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। ছয়টি এসির প্রতিটির ক্যাচিং পুড়েছে কিন্তু ভেতরের সব ঠিক আছে। বিস্ফোরণ হয়েছে গ্যাসের ও বিদ্যুতের স্পার্ক থেকেই।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সাংবাদিক, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিশুসহ ২৪ জন মারা গেছেন।
শুক্রবার রাত থেকে আজ রোববার দুপুর পর্যন্ত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন আবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ সংকর পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৪ জন মারা গেছেন। ২০ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিস্ফোরণে শরীরের ৯০ থেকে শতভাগ পর্যন্ত দগ্ধ হয়েছে। হাসপাতালে এখনও ১৩ জন ভর্তি আছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহতরা হলেন- সাংবাদিক নাদিম (৪৫),মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেক (৬০),ইব্রাহিম (৪২), দেলোয়ার হোসেন (৪২), মোস্তফা কামাল (৩৫) সাব্বির (২১), জুয়েল (৭) জুবায়ের (১৮), হুমায়ূন কবির (৭০), জুনায়েদ (১৭), রিফাত (১৮) কুদ্দুস ব্যাপারী (৭০), জামাল (৪০), রাশেদ(৩০), মাইনুদ্দিন(১২), জয়নাল(৪০), নয়ন(২৭),কাঞ্চন (৫০), রাসেল (৩৪), বাহাউদ্দিন(৫৫), মিজান(৩৪), শামীম হাসান (৪৫) , জুলহাস(৩৫) ও মোহাম্মদ আলী(৫৫)।

শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের তল্লায় জেমস ক্লাব এলাকার বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় আগুন লেগে অর্ধশতাধিক মুসল্লি দগ্ধ হন।
এদের মধ্যে ৪০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং ৩৭ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। এছাড়া এঘটনায় বাকীদেরকে নারায়নগঞ্জের স্থানীয় ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে।

Facebook Comments

Related Articles