BECK প্রকল্পের অভিজ্ঞতার আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে কিছু সুপারিশ

সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০

প্রযুক্তির প্রভাবে যে বিশ্ব মানুষের হাতের মুঠোয় এসেছে, তার বৈশ্বিক প্রভাব নানাবিধ। জ্ঞান বিজ্ঞানের নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছিল বৈকি, তবে নব্য সংকট তাকে অবিসম্ভ্যাবী করে তুলেছে। নয়া বিশ্ব ব্যবস্থার প্রাণ হয়ে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্রিক কার্যক্রম। সীমাহীন অনিশ্চিয়তা যখন গ্রাস করতে যাচ্ছে তখন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম আলোর সন্ধান দিচ্ছে। উন্নত বিশ্ব এই বিকল্প পাঠদান ব্যাবস্থার ফসল ঘরে তুলে নিতে শুরু করলেও বাংলাদেশের মত দেশ গুলিতে স্থবিরতা কাটানোর সম্ভাবনা কমই পরিলিক্ষত হচ্ছে। বরং আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থা এমনিতেই অবৈজ্ঞানিকতা, মান্দাতার আমলের চিন্তা ভাবনা, মুখস্থ বিদ্যা ও নকলের ভার মুক্ত হবার জন্য অবিরাম যুদ্ধ করছে। শিক্ষার সঠিক উদ্দ্যেশ্য, কৌশল ও প্রয়োগ বহু বছরের পালিত সিস্টেম জটিলতার বেড়াজাল ছিন্ন করে বের হতে পারছিল না। তৃনমূল হতে শুরু করে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত পচন ধরা নানাবিধ কুসংস্কার ও অপপ্রয়াস সরকারের সদিচ্ছা ও অক্লান্ত প্রচেষ্টা কে শ্লথ করে দিচ্ছে।তাই সারা বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বিজ্ঞানমুখী, নৈতিক ও বাস্তব সম্মত শিক্ষা ব্যাবস্থা প্রণয়নে সরকারের সদিচ্ছা পূর্ণ বাস্তব হতে কাংখিত সময়ের চাইতে ঢের সময় নিচ্ছে বলে BECK প্রজেক্টের সাথে যুক্ত গবেষক ও শিক্ষাবিদদের মনে হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন ভাবনা ও শিক্ষা ব্যাবস্থায় তার প্রয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহন এবং যুক্তরাজ্য,ইউরোপ, শ্রীলংকা সহ উন্নত বিশ্বের জলবায়ু, টেকসই উন্নয়ন ও শিক্ষা ব্যাবস্থাকে তার উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহারের বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে গবেষক গণ এই সিদ্ধান্তে উন্নীত হন যে, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে, ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের চাই শিক্ষা ব্যাবস্থার আমূল সংস্কার। সরকার গৃহীত নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়নে প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি, সচেতন ও নৈতিক বোধ সম্পন্ন সুনাগরিক। আর এই জন্য চাই জলবায়ু, প্রযুক্তি ভাবনা,নৈতিক বিষয় সমুহকে পাঠক্রমে অন্তর্ভূক্তি করন।শিক্ষা ব্যাবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন সাধনের জন্য চাই শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষন ও উন্নত বিশ্বের সাথে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা স্ংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়ের ভাব ও অভিজ্ঞতা বিনিময়। নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতায় অনলাইন শিক্ষা ব্যাবস্থা বিকল্পই নয় বাধ্যতামুলক বাস্তবতা হইয়ে উঠছে । দৃষ্টিভংগী বদলে সরকারের সাফল্য ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল পূর্নভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন করতে হবে।আজ প্রায় প্রতিটি বাড়িতে একটি স্মার্টফোন এবং একটি ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে জ্ঞান নিজেই সামনে এসে গেছে। বাচ্চাদের যদি সেই জ্ঞানটি সঠিকভাবে অনুসরণ করতে শেখানো যায়, তবে তাদের যাত্রাটি একটি দুর্দান্ত সাফল্য হবে। অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষককে তার সঠিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা মন্ত্রকের। একইভাবে, এদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকরা প্রায়শই শিক্ষকদের ভূমিকা পালন করেন। আসলে, এটি প্রথমে বুঝতে হবে যে স্কুল শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক দুটি ভূমিকা পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের দায়িত্ব একটি বই থেকে একটি নোট প্রস্তুত করা এবং শিশুকে শেখানোর বাইরে যাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সমাজ সম্পর্কে শিক্ষিত করা এবং তাদেরকে অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনে উদ্বুদ্ধ করা তাঁর কাজের একটি অংশ। তবে, একটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকের ভূমিকা এখানেই শেষ হয় না এবং বাচ্চাদের প্রসবের জন্য তাকে অবশ্যই নতুন জ্ঞান অর্জন করতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবন অবশ্যই করতে হবে। একটি অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষকরা এই সমস্ত করার সুযোগ পাবেন। স্কুল শিক্ষকদের মধ্যে শিশুদের মানবিক গুণাবলী এবং দৃষ্টিভঙ্গি বিকাশ এবং দেশ এবং বিশ্বের জন্য দরকারি মানুষ তৈরি করার ক্ষমতাও থাকবে। এই প্রসঙ্গে, অনলাইন শিক্ষাব্যবস্থা যদি সঠিক জায়গায় নেওয়া হয়, তবে নিঃসন্দেহে আমরা এদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যে পরিবর্তন আনা হচ্ছে তার সাথে দুর্দান্ত অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বিকাশ লাভ করার সুযোগ পাব। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ মনোভাবের বিকাশ এবং শৃঙ্খলায় প্রয়োজনীয় জ্ঞান-সন্ধানের পদ্ধতি অবলম্বন করতে আগ্রহী, উন্নত দেশগুলি সর্বদা শিক্ষার বাইরে যে শিক্ষাব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং বুদ্ধিমত্তাকে অগ্রাধিকার দেয় তাদের অগ্রাধিকার দেয়। এই অভিজ্ঞতার আলোকে BECK (http://beck-erasmus.com) প্রকল্পের গবেষক গন অনলাইন শিক্ষা ব্যাবস্থা, জলবায়ু , টেকসই উন্ন্যন ও নৈতিক শিক্ষাকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্তির মত দিচ্ছে।

লেখক:
• এ. কে. এম. মোস্তফা জামান,অধ্যাপক ,পটুয়াখাখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
• ড. ধীমান কুমার রায়,সহকারী অধ্যাপক ,বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles