বিসিএস প্রস্তুতি: করোনা ভাইরাস – পর্ব: ২

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

উপরোক্ত ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করতে চোখ রাখুন এই গ্রুপে – ৪২ তম (স্পেশাল বিসিএস) প্রস্তুতি, দিকনির্দেশনা এবং আপডেট

কোভিডের উপসর্গসমূহঃকোভিড-১৯ রােগের উপসর্গ (Symptoms) মূলত জ্বর, শুকনাে কাশি, ক্লান্তি। এছাড়া সর্দিকাশি, শ্বাসকষ্ট, গলাব্যথা, ডায়রিয়া ও হতে পারে। সাধারণ ফ্লু বা সর্দিজ্বরের সঙ্গে এরঅনেক মিল পাওয়া যায়। আক্রান্ত হবার পর প্রথম দিকে উপসর্গ খুবই কম থাকে, তারপর ধীরে-ধীরে বাড়তে থাকে। কখনও-কখনও এর পরিণামে নিউমােনিয়া ও শেষে মাল্টি অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে মৃত্যুও ঘটতে পারে। আবার কোনাে-কোনো ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির কোনাে উপসর্গই থাকে না বা তারা অসুস্থ বােধ করেন না। প্রায় ৮০ শতাংশ আক্রান্ত মানুষই সেরকম কোনাে চিকিৎসা ছাড়াই সেরে ওঠেন। জ্বর হলে, কাশি বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত নিকটস্থ ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। ডাক্তার বিষয়টা খতিয়ে দেখে প্রয়ােজনবােধে পরীক্ষা করাতে বলবেন। প্রতি ৬ জন আক্রান্তের মধ্যে ১ জনের শ্বাসকষ্টজনিত গুরুতর অবস্থা হতে পারে। যাদের রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা কম এবং যারা বয়স্ক (বিশেষত যাদের উচ্চ-রক্তচাপ, হার্টের সমস্যা বা ডায়াবেটিস রয়েছে) তাদের এই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।
করােনাভাইরাস (Covid-19) সংক্রামণরােধের উপায় ও সংক্রামন প্রক্রিয়াঃ
Covid-19 আটকানাের বা প্রতিরােধের ক্ষেত্রে বিশ্বের বহু দেশ দৈনন্দিন জীবন-যাপন ও চলাফেরার ওপর আমূল নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। ইতােমধ্যে উল্লেখ্য যে, কোভিড-১৯ একটি ছোঁয়াচে রােগ। নভেল করােনাভাইরাস সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু শরীরে ভাইরাস ঢোকা মানেই এমন নয় যে Covid -19 রােগের উপসর্গ সঙ্গে-সঙ্গে ফুটতে আরম্ভ করবে বা দেখা দিবে। 
কারাের ক্ষেত্রে দিন দুয়েকের মধ্যেই উপসর্গ দেখা দেয়, কারাের ক্ষেত্রে আবার সপ্তাহ দুয়েক। এটা অনেকটা নির্ভর করে ব্যক্তির রােগ প্রতিরােধ ক্ষমতা ও বয়সের ওপর। এই সময়কে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ইনকিউবেশন পিরিয়ড (Incubation period)। এখন পর্যন্ত দেখা যায় যে, নভেল করােনাভাইরাসের ইনকিউবেশন পিরিয়ড গড়ে ৫ থেকে ১৪ দিনের মত অর্থাৎ এই ইনকিউবেশন পিরিয়ডের মধ্যে সংক্রামিত কেউ না জেনেই আরও অনেককে সংক্রমিত করতে পারেন। এক মাসের মধ্যে একজন আক্রান্ত ব্যক্তি কত জনকে সংক্রামিত করতে পারেন- তা নির্ভর করে ঐ আক্রান্ত ব্যক্তি কত জন লােকের সংস্পর্শে ছিল তার ওপর।
অতএব, করােনাভাইরাসের সংক্রামনরােধ বা আক্রান্ত না হওয়ার সবচেয়ে উত্তম পন্থা হলাে লােক সমাগম এড়িয়ে চলা এবং অপ্রয়ােজনে জনবহুল স্থানে না যাওয়া । নিজ গৃহে নিজেকে আবদ্ধ রেখে নিরাপদে রাখাই এই ভাইরাস থেকে মুক্তির সবচেয়ে উত্তম প্রতিরােধমূলক প্রক্রিয়া (Preventive process)। এই এক্সপােনেন্সিয়াল বৃদ্ধির কার্ভটাকে একটু চ্যাপ্টা করা (flatten the curve), অর্থাৎ বৃদ্ধির হারটা কমিয়ে দেওয়াই এখন সব দেশের উদ্দেশ্য। না হলে এত আক্রান্ত লােকের চিকিৎসা করার মত সামথ্য প্রায় কোনাে দেশেরই নেই। Covid -19 এর কোনাে প্রতিষেধক টীকা এখনাে আবিষ্কার হয়নি।
তাহলে উপায় কী? এখানেই পৃথকীকরণ (Qurantine) ও সোশাল আইসােলেশান (Social Isolation) অর্থাৎ নিজেদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়ার গুরুত্ব অপরিসীম এবং মুক্তির একমাত্র পথ। এ পন্থা অবলম্বনে, বিশ্বের কয়েকটি উন্নত দেশ করােনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা নির্ণয়ের পর এর গুরুত্ব উপলদ্ধি করে Exponential বা ব্যাখ্যামূলক সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়- যেমন ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও বিশেষ করে চীনের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। করােনাভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে চীনসহ ইউরােপের বিভিন্ন দেশের জনগণের চলাফেরার ওপর কঠোর বিধি-নিষেধ জারি করা হয়েছিল। একজন ভাইরাস সংক্রামিত ব্যক্তির থেকে কতজন সংক্রামিত হবে তা নির্ভর করবে সেই ব্যক্তি ইনকিউবেশন পিরিয়ডের মধ্যে থাকাবস্থায় কতজনের সাথে মেলামেশা করছে।
যেমন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদির ফলে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, মার্কেট, রেস্টুরেন্ট, অফিস- কাছারী বন্ধ, তাই এখন সংক্রমনের গতি অনেকটা মন্তর। এই ধরণের ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে তাই আমাদের সামাজিক কর্তব্য হলাে নিজেদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব বাড়িয়ে দেয়া, যাতে ভাইরাস একজনের থেকে অনায়াসে অন্যজনের কাছে পৌঁছতে না পারে। এই দূরত্ব ততদিন বজায় রাখতে হবে, যতদিন না অবধি পুরাে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে, টীকার বা চিকিৎসার সাহায্যে, বা অন্যান্য কোনাে প্রাকৃতিক কারণে ভাইরাসের কার্যক্ষমতা কমে গেলে।আপাতত করোনা ভাইরাসের মহামারীকে ঠেকানাের একমাত্র উপায় হল, এর ছড়িয়ে পড়ার গতি কমিয়ে নেওয়া ও শেষ পর্যন্ত থামিয়ে দেওয়া।
 করোনা ভাইরাস-এর পরীক্ষা (Test) কিভাবে করা হয়?
বস্তুত যেকোনাে জায়গাতেই এই পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব। সাধারণত রােগীর গলার ভিতরে একটি তুলাের ডেলা (Cotton swab) প্রবেশ করিয়ে, সেটার সাহায্যে লালা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষাগারে পাঠানাে হয়। এছাড়া র‍্যাপিড টেস্টে অ্যান্টিবডির উপস্থিতি লক্ষ্য করার জন্য রক্ত পরীক্ষাও করা যেতে পারে। তবে সম্ভবত শুধুমাত্র চীন ও উন্নত বিশ্বেই এই পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, নমুনা সংগ্রহের প্রক্রিয়াটা সহজ হলেও ল্যাবরেটারীতে তা পরীক্ষা করার পদ্ধতিটা বেশ জটিল। নমুনাটা দিয়ে রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ পলিমারেজ চেন রিয়েকশন (Reverse Transcriptase Polymerase Chain Reaction) করা হয়।
যেকোনাে পলিমারেজ চেন রিয়েকশান (PCR) কোষের ডিএনএ-তে (DNA) ঘটে। কিন্তু, যেহেতু করােনাভাইরাস একটা আরএনএ (RNA) ভাইরাস, তাই পরীক্ষাটার প্রথম ধাপে রােগীর দেহ থেকে প্রাপ্ত নমুনায় ভাইরাস থাকলে তার RNA প্রথমে DNA-তে রূপান্তরিত হয়। তারপর PCR পদ্ধতিতে DNA-র অগুণিতবার রেপ্লিকেশান ঘটে যে প্রতিলিপি তৈরি হয়, তা থেকে নমুনাতে ভাইরাসের উপস্থিতি সহজেই বােঝা যায়। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে করােনা পজিটিভ বলা হয়। আর ভাইরাস না থাকলে কোনাে প্রতিলিপিই তৈরি হয় না। সেক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে করােনা নেগেটিভ বলা হয়। টেস্টের রেজাল্ট আসতে সময় লাগে ২৪ ঘন্টা। তবে প্রচুর নমুনা পরীক্ষার ক্ষেত্রে, সব ধাপগুলাে একসাথে করার সুযােগ না থাকায় অনেক সময় ৪৮-৭২ ঘন্টা সময়ও লাগতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, এই সময়

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন::
লাইক দিন: https://www.facebook.com/eisomoy365/ (‘এই সময়’ ফেসবুক পেইজ)
সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে: https://youtu.be/ZBMTaqUNbh4

Facebook Comments

Related Articles