পটিয়ায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডা.জিয়াউদ্দীন মোহাম্মদ সাকিবের উপর  হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন 

তারিখঃ১৩.১০.২০২০

আমাদের দেশে ডাক্তার দের বলা হয় ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন,কিন্তু দুঃখের বিষয় এই ” ফার্স্ট ক্লাস সিটিজেন ” দের ই কর্মক্ষেত্রে নেই কোন সম্মান,নেই সুরক্ষা।
কয়েক মাস আগেই , খুলনাবাসীর প্রাণপ্রিয় বন্ধু ডা.রাকিব খান স্যারকে খুলনাবাসী”ভুল চিকিৎসা”র অভিযোগ এনে হত্যার পর
সম্প্রতি, আবারো সাদা এপ্রোন রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার এর উপর।
হামলার শিকার ডা.জিয়াউদ্দীন মোহাম্মদ সাকিব জানান,৯ ই অক্টোবর, শুক্রবার,পুকুরে পড়ে জ্ঞান হারানো এক শিশুকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে ইসিজি পরীক্ষার ফলাফলের উপর ভিত্তি করে শিশুটিকে তিনি মৃত ঘোষণা করেন।এরপর পরিবার এর লোকজন বাড়ি ফিরে যায় এবং কিছু সময় পরেই আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে এই অভিযোগ নিয়ে যে শিশুটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর নড়াচড়া করছিল।কর্মরত চিকিৎসক,ডা.জিয়াউদ্দীন মোহাম্মদ সাকিব আবারো ইসিজি করেন এবং এবার ও তিনি শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। এতে পরিবারের সদস্য গণ ক্ষুব্ধ হয়ে চিকিৎসক কে মারধর শুরু করে।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে FDSR Students’ Wing এর চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ ইউনিটের শিক্ষার্থীরা একটি মানব বন্ধন পালন করেন। ১১ই অক্টোবর, সোমবার মেডিকেল ক্যাম্পাসে মানববন্ধনটি পালিত হয়। এই মানব বন্ধনে অংশ নেন মেডিকেলে বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং কমিটিতে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসকগণ। তাঁরা মানববন্ধনের মাধ্যমে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পলেক্সে ডা.জিয়াউদ্দিন মোহাম্মদ সাকিব এর উপর ঘটে যাওয়া হামলার নিন্দা জানান এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যক্ত করেন।মানব বন্ধনে উপস্থিত একজন চিকিৎসক বলেন,” এভাবেই ডাক্তার সমাজ বার বার অপমানিত হবে তা মেনে নেওয়া যায় না।সাধারণ জনগণের সেবা করতে গিয়েই রক্তাক্ত হতে হচ্ছে, এসব যদি এভাবেই চলতে থাকে তবে ডাক্তার হওয়ার প্রতি যেমন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাবে তেমনি যারা ভবিষ্যতে ডাক্তার হবেন বা এখন যারা ডাক্তার হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত আছেন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন।আমরা এটি চাই না।একটি নিরাপদ কর্মস্থল এবং রোগী ও রোগীর স্বজনদের কো-অপারেশন আমাদের কাম্য”।

নিজস্ব প্রতিবেদক,
ফাহমিদা সুলতানা ঈসা
চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ,চট্টগ্রাম।

Facebook Comments

Related Articles