মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দূর্দশার শেষ কোথায়!

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০

প্রায় ৭ মাস ধরে বন্ধ শিক্ষা জীবন।জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ৭টি মাস। ৬ বছরের এমবিবিএস কোর্স ঠেকেছে এখন ৭ বছরের মাথায়!
এই ৭টি মাসে পড়ালেখা করেনি এমন শিক্ষার্থী খুজে পাওয়া মুশকিল! এছাড়া আইটেম, টার্ম, জুম ক্লাস তো ছিলই প্রতিনিয়ত। এই ৭টি মাসে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনই আশা করেছিল আজ বুঝি নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে কোন নির্দেশনা আসবে!
কিন্তু না! একটি নির্দেশনাও আসে নি। কোন প্রতিশ্রুতি পাওয়া যায়নি। পেয়েছি! কিন্তু তা ছিল শুধুই গুজব। এই ৭মাসে কম করে হলেও এক ডজন গুজব সংবাদ ছড়িয়েছে। কিন্তু আমাদের ভুল ভাঙাতে আসেনি কেও।

বর্তমানে ডিসেম্বরে একটি একটি করে প্রফ নেবার খবরে সয়লাব শিক্ষাগণ, কিন্তু এটিই কি আসল সমাধান?
শোনা যাচ্ছে পরীক্ষার ১মাস আগেই হোস্টেলে চলে আসতে হবে,করতে হবে বন্ড সাইন,পরীক্ষার কিছুদিন আগে করানো হবে করোনা টেস্ট।
টেস্ট যদি পজিটিভ আসে তখন?? আমার জীবন থেকে কি তখন হারিয়ে যাবে আরো ৬টি মাস?৷ শুধু কি আমার? আমি যে না জেনেই এই মরণঘাতী ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়েছি আমার বন্ধুদের মাঝে! তাদের কি হবে? এখানেই শেষ নয়! আমি যদি পরীক্ষার মধ্যবর্তী সময় করোনা আক্রান্ত হই তবে? আমি মাঝপথে এসেই পিছিয়ে যাব?
কয়জন আদর্শ মেডিকেল শিক্ষার্থী পাবো আমরা যারা নিজেদের সিম্পটম লুকাবে না? অনেকেই থাকবে যারা সিম্পটম লুকিয়ে পরীক্ষা দিতে চাবে।বিপদে ফেলবে আরো কয়েক’শ শিক্ষার্থীদের

এইচএসসির মতো বর্তমানে ১ম,২য়,৩য় প্রফের অনেক শিক্ষার্থী অটোপ্রমোশন এর দাবি জানাচ্ছে।শুনতে কটু হলেও যেখানে উন্নত অনেক বিশ্বে এই অটোপ্রমোশন মেনে নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমাদের দেশে এটা নিয়ে এতো হইচই কেনো হচ্ছে তা আসলে অনেকেরি বোধগম্য নয়।
একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী প্রফে বসার আগে অগণিত আইটেম,২/৩ টি টার্ম শেষ করে আসে।অটোপ্রমোশন দিলে যদি আমাদের কারিকুলাম এ ঘাটতি রয়েই যায় তবে কেন দিই আমরা এসব আইটেম/টার্ম। যৌক্তিকতা কোথায়?

হয়তো এই ছোট্ট লিখাটি নীতিনির্ধারকদের কাছে পৌছাবে! হয়তোবা পৌছাবে না!
কিন্তু একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে দাবি থাকবে স্যার/ম্যাডাম প্লিজ আমাদেরকে এভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে না রেখে একটু সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দিন।
এভাবে কোন উদ্দেশ্য ছাড়া আমরা ৭টি মাস কাটিয়েছি। আর না!

অটোপ্রমোশন হোক আর প্রফই হোক এটা অবশ্যই নীতিনির্ধারণী প্যানেল ঠিক করবেন।
কিন্তু সত্যিকার অর্থেই যদি ডিসেম্বরে একটি একটি করে প্রফ নেবার কথা আসে তাহলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আবেদন জানবো যে এভাবে বন্ড সাইন নিয়ে সব দায়ভার আমাদের উপর চাপিয়ে প্রফ না নেওয়াই উত্তম।কেও তো আর স্বেচ্ছায় করোনায় আক্রন্ত হয় না বৈকি!

আশা করি সুদিন আসবেই।এবং আমরা একটু সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাবো।
ইন শা আল্লাহ।

সামিন ইসফাক
নিজেস্ব প্রতিবেদক

যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে-

আমাদের ফেসবুক পেইজ- এই সময়

Facebook Comments

Related Articles