সবক্ষেত্রেই অটোপ্রমোশন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদেরই কেন নয়?

শুক্রবার,১৬ অক্টোবর, ২০২০

করোনা মহামারীর কারনে সারাপৃথিবীর শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ৭মাস ধরে শিক্ষাপ্রষ্ঠান থেকে দূরে। শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাদান কর্মসূচী দেওয়া হলেও তা শতভাগ সবার কাছে পৌঁছায় নি।

শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে জেএসসি এবং এইচএসসি র মতো বিশাল পাবলিক পরীক্ষা গুলোর পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয় অটোপ্রমোশন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও যাতে সেশনজট না হয় তার জন্য নামে মাত্র অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করা হচ্ছে। তারমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন এই বছর শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন দেওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

যেইখানে সব জায়গায় অটোপ্রমোশনের জোয়ারে ভাসছে শিক্ষার্থীরা সেইখানে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাই কেন অবহেলিত-উপেক্ষিত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রায় সব মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মনে।

মেডিকেলে অটোপ্রমোশন দেওয়া কতোটুকু যুক্তিযুক্ত এই বিষয়ে জানতে চাইলে এক শিক্ষার্থী বলে, মেডিকেলে প্রতি স্টুডেন্টই প্রতিনিয়ত যাচাই হয়। সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিনই আইটেমের মাধ্যমে পড়া আদায় করা হয়। এ ছাড়া কার্ড, টার্ম এটেনডেন্সের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর মেডিকেল শিক্ষার দক্ষতা যাচাই করা হয়।এইখানে কেউই তার পরীশ্রম ছাড়া সামনে আগাতে পারে না। যেখানে অনান্য যে কোন শাখার শিক্ষার্থীদের থেকে মেডিকেলের শিক্ষার্থীদের বেশি যাচাই করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত সেইখানে তাদের কেন অটোপ্রমোশন দেওয়া হবে না এমন প্রশ্ন করেন সেই শিক্ষার্থী।

এছাড়া কয়েকদিন যাবৎ বিভিন্ন জায়গায় ডিসেম্বরে প্রফ নেওয়ার যে সিদ্ধান্ত শোনা যাচ্ছে সেই সিদ্ধান্তে সকল শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ। তারা বলছেন প্রফ যখন নেওয়া হবেই তা হলে আগে কেন নেওয়া হলো না, ১০মাস কেন নষ্ট করা হলো।

ফেসবুকে মেডিকেল ভিত্তিক গ্রুপ স্টেথোস্কোপ সহো বিভিন্ন গ্রুপে প্রফ সম্পর্কে মতামত জানতে চেয়ে পোল খুললে সেইখানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই অটোপ্রমোশনের পক্ষে ভোট দেন। এছাড়া কিছু শিক্ষার্থী এখন অটোপ্রমোশন দিয়ে নতুন বর্ষের ক্লাস শুরু করা হউক এবং পরবর্তী ফাইনাল ইয়ারে ভাইবার সাথে এই স্থগিত প্রফের পড়া যুক্ত করা হউক জানায়।

কিন্তু সিংহ ভাগ শিক্ষার্থীরাই অটোপ্রমোশনের পক্ষে।

তাই তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে তারা আগামী শনিবার মানববন্ধন সহো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে জানা যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক /সিজান শেখ

Facebook Comments

Related Articles