“অটোপ্রমোশনের দাবিতে চট্টগ্রামে মানববন্ধন “

করোনা মহামারীর কারনে সারাপৃথিবীর শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাও ৭মাস ধরে শিক্ষাপ্রষ্ঠান থেকে দূরে। শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষাদান কর্মসূচী দেওয়া হলেও তা শতভাগ সবার কাছে পৌছায় নি।

শিক্ষার্থীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা ভেবে জি এস সি এবং এইচ এস সি র মতো বিশাল পাব্লিক পরীক্ষা গুলোর পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয় অটোপ্রমোশন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতেও যাতে সেশনজট না হয় তার জন্য নামে মাত্র অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে পরবর্তী সেমিস্টারের ক্লাস শুরু করা হচ্ছে। তারমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন এই বছর শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন দেওয়া ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

যেইখানে সব জায়গায় অটোপ্রমোশনের জোয়ারে ভাসছে শিক্ষার্থীরা সেইখানে ১৯০টি আইটেম,১৮টি কার্ড এবং তিনটি টার্ম দিয়ে যাচাই করা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন তো দেওয়া হচ্ছেই না তারউপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে ডিসেম্বরে করোনার প্রকপ যখন বাড়বে সেই সময়েই প্রফেশনাল পরীক্ষা। যেইখানে প্রতিটা মেডিকেল কলেজই একেকটি করোনা সংক্রমণের কেন্দ্র।

এমতাবস্থায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয় ক্ষোভ। সেই ক্ষোভেরই প্রতিফলন হিসাবে সারাদেশে মেডিকেল শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন।

তারই অংশ হিসাবে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি মেডিকেল কলেজের ১৮-১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম প্লেসক্লাবের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনের উদ্দেশ্য এবং তাদের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, অটোপ্রমোশন মেডিকেল শিক্ষার্থীদের যুক্তিক দাবি। ১৯০টি আইটেম,১৮টি কার্ড এবং তিনটি টার্ম দিয়ে যাচাই করা মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন তো দেওয়া হচ্ছেই না তারউপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে করোনার প্রকোপের মধ্যে প্রফেশনাল এক্সাম।

এমন একপাক্ষিক সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি ক্ষোভ তৈরি হয় তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই মানববন্ধন। মানববন্ধনে বক্তারা শিক্ষার্থীদের অটোপ্রমোশন, করোনার প্রকোপের মধ্যে কোন রকম পরীক্ষা আয়োজনের বিরোধিতা,সেশনজটের ঘূর্ণিপাকে যেন না পড়তে হয় তার দাবি এবং নির্ধারিত বেতন ব্যাতীত অতিরিক্ত কোন ফি যাতে কোন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ অনৈতিক ভাবে না নিতে পারে তা বক্তিতায় তুলে ধরেন।

এছাড়া তারা জানান করোনার কারনে স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে শিক্ষার্থীদের যেন বেশি সমাগম না হয় তা তারা খেয়াল রেখেছেন। কিন্তু তাদের ন্যায্য দাবি আদায় না হলে সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে বড় ধরনের সমাগম করে আরো কঠোর আন্দোলনে যেতে দ্বিধা বোধ করবেন না বলে জানান।

তারা এই ও জানান আর যেন কোন একপাক্ষিক সিদ্ধান্তের স্বীকার না হয় মেডিকেল শিক্ষার্থীরা।

Facebook Comments

Related Articles