সেশন জট দূর করতে অটোপ্রমোশন এর দাবিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০

মেডিকেল শিক্ষার্থীদের প্রতি পর্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা, পেশাগত পরীক্ষা নিয়ে চলছে নানান রকম দ্বিধা দ্বন্দ্ব। গত মে,২০২০ এ অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল ১ম,২য় ও ৩য় পেশাগত পরীক্ষা, কিন্তু করোনা যেন হঠাৎ করেই থামিয়ে দিলো সবকিছু। জীবন রক্ষার তাগিদে দীর্ঘ ৭ মাস পড়াশোনা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়েছে, সেই সাথে পেশাগত পরীক্ষা ও রয়েছে থেমে। কিছুদিন আগে, ডিসেম্বরে পরীক্ষা হবার সম্ভাবনা আছে বলে নোটিশ পান শিক্ষার্থীরা। অথচ কোভিড১৯ এর ঝুঁকি এখনো বেড়েই চলছে। এদিকে, নোটিশে এটিও উল্লেখ থাকে যে, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেউ কোভিড১৯ আক্রান্ত হলে সে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, যেটি অন্যায্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

তাছাড়া, মেডিকেল কলেজের হোস্টেলগুলোতে একই ভবনে শতাধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করেন, এমতাবস্থায় ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। অপরদিকে, বিএমডিসির নিয়মানুযায়ী পেশাগত পরীক্ষা সম্পন্ন না করে কোনো শিক্ষার্থী পরবর্তী পর্বে উন্নিত হতে পারবেন না। তাই, যতদিন পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হচ্ছে, তাদের থাকত হবে সেশন জটে, যেটি একান্তই কাম্য নয়।
তাই মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবি, “এই অবস্থায় একটি পথই খোলা সেটি হচ্ছ অটোপ্রমোশন!”

বিএমডিসি কার্যালয়ের সামনে সাধারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

সে দাবি নিয়েই আজ(১৯ অক্টোবর) বিএমডিসি কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন সকল সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সাধারণ  শিক্ষার্থীরা। একই সাথে, সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ থেকে ৪০ জন প্রতিনিধি মিটিং করেন বিএমডিসি ও বিএমএ এর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে।

প্রথমত সকাল ৯.৩০ এ তারা বিএমডিসি কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন এবং মানববন্ধন এর এক পর্যায়ে তারা বিএমডিসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং এ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বিএমডিসির কর্মকর্তারা জানান, তারাও চাইছেন না করোনাকালীন কোনো ঝুঁকি সৃষ্টি হোক, আর ইতোমধ্যে অনেক ডাক্তার প্রাণ হারিয়েছেন। তাই তারা পরবর্তী মিটিং এ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবেন এবং এ বিষয়ে তারা বিএমএ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ আশা করছেন।

কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা

পরবর্তীতে দুপুর ১২ টায় শিক্ষার্থীরা বিএমএ ভবনে অবস্থান করেন এবং  দুপুর ২ টা নাগাদ সেখানে মিটিং শুরু হয়,যেটি ৩.৩০ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। সেখানে বিএমএ কর্মকর্তারা জানান, করোনায় পরীক্ষা নেয়া যেহেতু খুবই ঝুঁকিপূর্ণ তাই ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেয়াও সম্ভব হবে না। তবে অটোপ্রমোশন এর বিষয়ে এখনও কিছু বলতে পারছেন না। তাদের নিজস্ব আলোচনার মধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজগুলো যেসকল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ, তাদের কাছ থেকে কতোটুকু ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে সে বিষয়ে তারা সন্দিহান।

উল্লেখ্য, সকল মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিও পাঠানো হয় বিএমডিসি কার্যালয়ে। সেখানে তাদের দাবি হিসেবে উল্লেখিত ছিল-

১। করােনাকালীন সময়ে ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ১ম,২য়,৩য় বৃত্তিমূলক পরীক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদেশ অতিদ্রুত সংশােধিত করা হােক
২। অনতিবিলম্বে সেশনজট দূরীকরণের লক্ষ্যে পূর্বের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রমােশন দিয়ে পরবর্তী ধাপের অনলাইন ক্লাস শুরুর নির্দেশনা দেয়া হােক
৩। ক্লাস ও পরীক্ষা সংক্রান্ত সকল আদেশের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক, এই সময়

দ্রুত সকল আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন আমাদের সাথে-

আমাদের ফেসবুক পেইজ – এই সময়

Facebook Comments

Related Articles