বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার প্রতি ছাত্রলীগের শ্রদ্ধা

মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২০

জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) সকাল ৮টায় ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংগঠনটির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

এরপর সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে তারা বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদ ও কারাগারে নিহত জাতীয় নেতাদের কবরে ফুলেল শ্রদ্ধা এবং ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিল ও মোনাজাতে অংশ নেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ছাত্রলীগ সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘জাতির পিতা ও তাঁর সুযোগ্য চার ঘনিষ্ঠ সহচরের বর্ণাঢ্য ঘটনাবহুল জীবন-প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মী ও তরুণ প্রজন্মের কাছে রাজনীতি শেখার এক অমূল্য পান্ডুলিপি। তাঁরা আমাদের চলার পথের অনুপ্রেরণা ও শক্তি। জেলহত্যা দিবসে জাতির পিতা ও জাতীয় চার নেতার প্রতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবারের পক্ষ থেকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।’

ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য জাতীয় চার নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘নৃশংসতা কোন পর্যায়ে পৌঁছালে বন্দি অবস্থায় বহিরাগতরা জেলে ঢুকে কাউকে হত্যা করতে পারে। ষড়যন্ত্রকারীরা সুপরিকল্পিতভাবে জাতির পিতার মতোই নির্মমভাবে হত্যা করেছিল বাংলাদেশের চার সূর্য সন্তানকে।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান রিদয়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ প্রমুখ।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর আজীবন রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এএইচএম কামারুজ্জামানকে জেলখানার ভেতরে গুলি করে ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকচক্র। সেদিনের ওই ঘটনায় দেশবাসীসহ সমগ্র বিশ্ব স্তম্ভিত হয়েছিল। কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে জঘন্য ও বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।

বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ঘৃণিত বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং তৎকালীন স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোস্তাক আহমদের প্ররোচণায় এক শ্রেণির উচ্চাভিলাসী মধ্যম সারির জুনিয়র সেনা কর্মকর্তারা এ নির্মম হত্যাকাণ্ড চালায়। রাষ্ট্রের হেফাজতে হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনাটি বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসছে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক, এই সময়

Facebook Comments

Related Articles