“শীতবস্ত্র বিতরণ ও করোনা সতর্কতায় হাসিমুখ”

“বঞ্চিত তোর স্নিগ্ধ হাসি, হৃদয় মাঝে বাজায় বাঁশি” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল তরুণ-তরুণী স্বপ্ন পূরণের যাত্রা শুরু হয় ‘হাসিমুখ’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটির মাধ্যমে। ২০১৭সালের ২৬শে মার্চ ১২জন উদ্যমী তরুণ-তরুণীর প্রচেষ্টায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৈশ বিদ্যালয়ের আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় হাসিমুখের পথচলা। এরপর আর থেমে থাকেনি তারা, আর্তের সেবায় নিয়োজিত থেকেছে সবসময়। কারণ একটি সুন্দর পৃথিবীতে সকলের মুখে হাসি ফোটানোই একমাত্র লক্ষ্য । তাই প্রতিবছরই ‘হাসিমুখ’ ধারাবাহিক কাজগুলো করে থাকে যেমন: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, ডাস্টবিন স্থাপন, বন্যার্তদের সহায়তা প্রদান, ঈদসহ অন্যান্য উৎসবে দরিদ্রের মুখে হাসি ফোটানো, শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে নিয়োজিত।
তবে এবারে পুরো পৃথিবীর প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মানুষ বিভিন্ন আঙ্গিকে ক্ষতিগ্রস্থ। করোনার প্রকোপে যখন পুরো বিশ্ব স্থবির ঠিক তখনই ‘হাসিমুখ’ সাহায্য নিয়ে গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের কাছে। তবে এরই মধ্যে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মত জেঁকে বসেছে শীতের তীব্রতা। শীতে করোনার শক্তিশালী আঘাতে জরাজীর্ণ স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা। আর যারা দরিদ্রসীমার নিচে অবস্থান করে তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। এই প্রতিবারের মত এবারও শীতার্তদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে হাসিমুখ।
“শীতার্তদের পাশে রয়ে, সচেতন করবো করোনা নিয়ে” – এই স্লোগানকে সামনে রেখে হাসিমুখ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ‘শীতবস্ত্র বিতরণ ও করোনা সতর্কতায় হাসিমুখ’ প্রোগ্রামটি। পুরো বিজয়ের মাস জুড়ে শীতার্তদের মুখে হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতায় হাসিমুখ দেশের বিভিন্ন জেলায় অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ করে।মূলত ৪টি ধাপে দেশের বিভিন্ন স্থানে সর্বমোট ৭৫টি কম্বল, ৬৭টি হুডি, ১৪টি চাদর এবং সেই সাথে সকলকে মাস্ক প্রদান করে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় রিকশাচালক, হোটেলবয়, ভিক্ষুকসহ ময়মনসিংহের একটি মাদ্রাসার ছাত্রদের মাঝে এবং  ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, দিনাজপুর, রংপুর, কুড়িগ্রাম, বগুড়া ও সাভারসহ ১২টি জেলায় অসহায় পরিবারের মাঝে এসকল ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
উল্লেখ্য যে, ২০১৮সালে ব্রহ্মপুত্র নদের ঐপাড়ে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে হাসিমুখ। এরপর ২০১৯সালে সকলের সহযোগিতায় হাসিমুখ শীতবস্ত্র নিয়ে পৌঁছে জাউ কুড়িগ্রামের দুই শতাধিক শীতার্ত অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, এছাড়াও ক্যাম্পাস এরিয়া ও হল কর্মচারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করে হাসিমুখ।প্রতিবছরই হাসিমুখ যেন নতুনরূপে নতুন উদ্যমে সকলের নিকট সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে তার জন্য সকলেই সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় 

Facebook Comments

Related Articles