“স্বপ্নবাজ তরুণদের চোখে ক্যাপসিকাম”

বাংলাদেশ তথা বিশ্বের জনপ্রিয়তার শীর্ষে এখন ক্যাপসিকাম, আর বাংলাদেশের মাটিতে ক্যাপসিকামের সফলতার গল্প তুলে ধরতে আসছেমোঃ মোরশেদুল আলম লোটাস(লেভেল-২,বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহ) মহল্লাঃবাগরাকসা(এলজিইডি সংলগ্ন)উপজেলাঃশেরপুর সদরজেলাঃশেরপুর।

কীভাবে ক্যাপসিকাম চাষ শুরু?করোনার বন্ধ শুরু হলে আমরা স্কুলের বন্ধুরা যারা দেশের বিভিন্ন সুনাম ধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে তারা সবাই আবার দীর্ঘ সময় পর এক হলাম।একসাথে আড্ডাবাজি করতাম।পরবর্তীতে যখন বন্ধের সময়টা দীর্ঘায়িত হলো কেউ টিউশন,কেউ ফ্রিল্যান্সিং করে প্রোডাক্টিভ কিছু করতে শুরু করে।
এ সময় আমার দুই বন্ধু মাহাদী হাসান(Mechanical Engineering,MIST) ও মেহেদী হাসান শাকিল(BBA,South East University) আমি লোটাস(Agriculture,BAU) ও আমার আরেক বন্ধু মাশরাফি ইমরান(Leather Engineering,DU) এর সামনে এই ক্যাপসিকাম চাষের ব্যাপারটি উপস্থাপন করলো।মাহাদী ব্যাপারটি ইউটিউবের মাধ্যমে দেখেছিল,কারণ বহির্বিশ্বে গ্রীনহাউজ ছাড়াও খোলা মাঠে ক্যাপসিকাম কমার্শিয়ালি উৎপাদন করা হয়।তারপর আমরা চারজন আরও অনুসন্ধান করে মনোবল বাড়ালাম,আর সাহস করে সিদ্ধান্ত নিলাম যা হওয়ার হবে-আমরা এই ফসল চাষ করবো।
বীজ সংগ্রহ ও জমি চাষঃ
আমাদের শেরপুরের লোকাল কৃষকরা যেহেতু এ ফসলের সাথে একদমই পরিচিত ছিলনা,তাই আমরা প্রথমত বীজের ডিলারদের সাথে বীজ আনয়নের জন্য কথা বলি।তাদের আমরা বলি একদম ভালো জাতের বীজ এনে দিতে পারবে কিনা?তারা আশ্বস্ত করলে, আমরা তাদের মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমান ভালো সবুজ ক্যাপসিকামের বীজ সংগ্রহ করি ঢাকা থেকে।অতঃপর বীজতলা করে আমরা দীর্ঘ একমাস পর জমিতে রোপণের উপযোগী চাড়া পাই।

যেহেতু জমি চাষের ব্যাপারটা আমাদের কাছে নতুন,তবুও কিছুটা আইডিয়া ছিল,কারণ গ্রামে যাওয়া আসা ছিল সবার।তো প্রথমত ট্রাক্টর দিয়ে ১৭ শতাংশ জমি চাষ করি,ইতিমধ্যে আমাদের অনুসন্ধানের ফসল হিসাবে এক বড় ভাই(বিপ্লব) এর সাথে ফেসবুকে পরিচয় হয়েছিল,তিনি কৃষি নিয়ে বাস্তবিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হওয়ায় তার সহায়তায় এই অল্প জমিতে সার এর পরিমাপ জানতে পারি এবং তার ই পরামর্শ মত আমরা বিম করে আধুনিক কৃষির অংশ হিসাবে মালচিং পেপার ও ব্যাবহার করি ৬ টি বিমে।যেহেতু আমাদের পরীক্ষামূলক একটি প্রজেক্ট তাই ১টি বিম আমরা মালচিং ছাড়াও করেছি।
কতদিন পর ফলনঃ
চাড়া জমিতে রোপণ ২৮ অক্টোবর ২০২০,প্রথম ফলন উত্তোলন করি ৩১ডিসেম্বর-প্রায় ২ মাস পর।
আশাবাদীতাঃ
এখন আমাদেরদ জমিতে প্রায় ১০০০এর মতো গাছ আছে,ফলনও বেশ ভালো হয়েছে,সকল গাছেই আমাদের আশার থেকে বেশী ফুল,ফল এসেছে-তবে শীতের তীব্রতার কমবেশ হওয়াটা গাছের উপর বাজেভাবে ইফেক্ট ফেলছে।তবুও আশা করতেছি আমরা প্রতি গাছ থেকে৭০০-৮০০ গ্রাম করে ফলন পাবো।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাঃ
আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন যে এত তাড়তাড়ি শুরু হবে ভাবতেও পারিনি-তবে শুরু তো হলো।আলহামদুলিল্লাহ ক্যাপসিকাম চাষও যে কৃষকের জন্য বিশাল লাভজনক একটা ফসল হতে পারে তা আমরা তাদের মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয়েছি।আশা করছি আমরা যেমনটি ভেবেছিলাম, সামনের বছর এই শেরপুর এলাকায় বিশাল আকারে ক্যাপসিকাম চাষের একটি ঢল আসবে কৃষকের মাঝে।তবে তাদের মাঝে মার্কেটিং একটা সংশয় আছে,আমরা সে ব্যাপারে প্রতিনিয়ত কাউন্সিলিং করে যাচ্ছি-যথা সম্ভব ক্যাপসিকামের সকল মার্কেট প্লেসের সাথে আমরা নিজেরা যোগাযোগ করেছি।এই প্রথম প্রজেক্টে আমরা মোটামুটি ভাবে সফল।
 অদূর ভবিষ্যতে আমরা আরও নতুন প্রজেক্ট নিয়ে ফিরবো ইনশাআল্লাহ,আমাদের বৈদেশিক আরও অনেকগুলো ফসল নিয়ে চিন্তাভাবনা আছে।সেই সকল আধুনিকতার ছোঁয়া আমরা আমাদের লোকাল কৃষির আদলে আনার পরিকল্পনা প্রতিনিয়ত করে চলেছি।তাছাড়া দেশীয় অনেক কৃষি রিলেটেড বিজনেস আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি-সুযোগ হলে আমরা নিজেদের সর্বোচ্চটা নিয়ে সকলের মাঝে ফিরবো।আরেকটা বিষয় জানিয়ে রাখি-আমরা আমাদের এই ফসলের উৎপাদন থেকে বিপনন পর্যন্ত সকল বিষয়কে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনতে পেরেছি-ইতিমধ্যে Friends Agro 360 নামে আমাদের ফেসবুক যে পেইজটি আছে বেশ বিশ্বস্ত একটা মাধ্যম হয়ে উঠেছে সকলের মাঝে।মাত্র এক দুই মাসের মধ্যে পেইজটির সাথে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যুক্ত হয়েছেন  ২০০০ এর বেশী মানুষ।আশা করছি আমাদের কোয়ালিটি প্রোডাকশন এর প্রতি জোর দিলে মানুষের সাপোর্ট টা বহুগুনে বেড়ে যাবে।
নিজস্ব প্রতিবেদকক্যাম্পাস প্রতিনিধিবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। 

Facebook Comments

Related Articles