লোহার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক দরপতন, দেশে রডের দাম বাড়ছেই

আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাচামাল ৬৩.৫% লোহা সমৃদ্ধ আকরিকের দাম ব্যাপক বেড়ে যায় এ বছরের জুন জুলাইয়ের দিকে। বাংলাদেশেও সাথে সাথে দাম বেড়ে যায় অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান উপকরণ রড সহ স্টিল জাত সকল পন্যের। ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার নির্মান সামগ্রীর বাড়তি দাম মোকাবিলায় রড তৈরির প্রধান উপকরণ স্ক্র্যাপ আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। উৎপাদনকারীদের কর ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারনে এর কোন প্রভাব ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে নি। আন্তর্জাতিক বাজারে আগস্ট থেকেই লোহার আকরিকের দাম পড়তে শুরু করলেও আমাদের দেশে রডের দাম বাড়ছেই। ব্যবসায়ীদের একই কথা কাচামালের দাম বাড়তি। অথচ এখন একটু খোজ খবর নিলেই জানা যায় প্রকৃত খবর।



চীনের ইস্পাত উৎপাদনের পরিমান কমায় শিল্প খাতে চাহিদা সংকোচনে আকরিক লোহার দাম কমেছে ৬৫ শতাংশ। এতে চলতি ও আগামী বছরের জন্য শিল্প ধাতুটির দামের পূর্বাভাস কমিয়েছে রেটিং সংস্থা ফিচ সলিউশনস কান্ট্রি রিস্ক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ। খবর হিন্দু বিজনেস লাইন।

তিয়ানজিনে আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ৮৭ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৭ মাসের সর্বনিম্নে। মে মাসে আকরিক লোহার দাম রেকর্ড সর্বোচ্চে পৌঁছানোর পর ধীরে ধীরে কমেছে। ফিচের পূর্বাভাস, ২০২১ সালে যেখানে টনপ্রতি আকরিক লোহার গড় দাম ১৫৫ ডলার, ২০২৫ সালে তা ৬৫ ডলারে নেমে আসবে। ২০৩০ সালে টনপ্রতি আকরিক লোহার দাম দাঁড়াতে পারে ৫২ ডলার।

আকরিক লোহার দাম কমার পেছনে চীনের আমদানি হ্রাস ভূমিকা রেখেছে। অক্টোবরে আকরিক লোহার সর্বোচ্চ ব্যবহারকারী দেশটির আমদানি চার শতাংশ কমেছে। এ নিয়ে টানা দুই মাস আকরিক লোহা আমদানি কমিয়েছে চীন। এ ছাড়া চীনের ভবন নির্মান খাতে মন্দা দেখা দিয়েছে। কোটি কোটি ফ্ল্যাট অবিক্রীত রয়ে গেছে।

আকরিক লোহার দাম কমার আরেকটি কারন সম্প্রতি পরিবেশ দূষন রোধে চীনের কয়েকটি যায়গায় ইস্পাত কারখানার কার্যক্রম সীমিত করে এনেছে । আর এই ইস্পাত তৈরির প্রধান উপাদান আকরিক লোহা । আর তাই ইস্পাত তৈরি কমে যাওয়ার সাথে সাথে আকরিক লোহার চাহিদাও কমে গেছে ।

গত ১৫ অক্টেবর প্রতি টন আকরিক লোহা ৯১ ডলার শূন্য ৫ সেন্টে বেচাকেনা হয়,যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কম । একই দিনে পণ্যটির দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায় । যা কিনা গত দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন দাম ।

চলতি বছরে এই ধাতুটির উত্তলন ৩৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮ কোটি ৬৭ লাখে উন্নীত হয়েছে বলে জানান বিশ্বের শীর্ষ আকরিক লোহা উত্তলনকারী ব্রাজিলিয়ান কোম্পানি ভ্যালে । আর এই খবর প্রকাশ হওয়ার পর চীনের বাজারে এই পন্যটির দাম কমতে শুরু করে ।

অন্যদিকে চীনের বন্দরগুলোতে আকরিক লোহার মজুদ বেড়ে গত পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে পৌছে গিয়েছে । ব্রাজিল এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে এই পন্যটির বাড়তি সরবরাহ থাকায় দেশটিতে আকরিক লোহার মজুদ বাড়ার অন্যতম কারন বলে জানা গেছে । বর্তমানে চীনের বন্দরগুলোতে এই ধাতুটির মজুদ রয়েছে ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টন ।

Related Articles